বিশেষ রাজনৈতিক প্রতিবেদক :
২৪-এর পটপরিবর্তনের সুবিধাভোগী এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তাঁর স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা অত্যন্ত গোপনে সপরিবারে বাংলাদেশ ছেড়েছেন।
নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক ও বিনোদন সূত্রের খবর অনুযায়ী, দেশের বর্তমান নড়বড়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝেই এই তারকা দম্পতি দূরপ্রাচ্যের দেশ অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টার এমন আকস্মিক ও রহস্যজনকভাবে দেশান্তরী হওয়ার ঘটনাটি সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই একে সংকটের মুখে ‘নিরাপদ পলায়ন’ হিসেবে দেখছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফারুকীর এই হঠাৎ দেশত্যাগের নেপথ্যে রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের অভ্যন্তরীণ তীব্র মনস্তাত্ত্বিক চাপ ও অস্থিরতা। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের নানা বিতর্কিত অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত, অনৈতিক বাণিজ্যিক চুক্তি এবং নীতিনির্ধারণী ‘কিচেন কেবিনেট’-এর কিছু অত্যন্ত সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর তথ্য জনসমক্ষে ফাঁস হয়ে যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, “সরকারের ভেতরের এই চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও কেলেঙ্কারি ফাঁসের পর থেকেই উপদেষ্টা পরিষদের একাংশ নিজেদের গা বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। ফারুকী ও তিশার এই গোপন অস্ট্রেলিয়া যাত্রা মূলত সেই ব্যর্থতার দায় এড়ানোর এবং নিরাপদ আশ্রয়ে গা ঢাকা দেওয়ার কৌশলেরই অংশ।”
২০২৪ সালের পটপরিবর্তনের পর ফারুকীর উপদেষ্টা পদে নাটকীয় অন্তর্ভুক্তি নিয়ে শুরু থেকেই দেশজুড়ে তুমুল সমালোচনা ও বিতর্ক ছিল। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, ক্ষমতার মধু চন্দ্রিমা শেষ হতেই এবং ২০২৬ সালের এই নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হওয়া মাত্রই দেশের প্রতি দায়িত্ব ভুলে এই দম্পতি বিদেশে পাড়ি জমালেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনরা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলছেন, সংকটকালে দেশকে ফেলে এভাবে গোপনে চলে যাওয়া চরম সুযোগসন্ধানী মানসিকতার পরিচয় দেয়। নাট্যপাড়া ও সচেতন মহলেও প্রশ্ন উঠেছে—যাঁরা মুখে দেশের পরিবর্তনের কথা বলেন, পরিস্থিতি একটু ঘোলাটে হতেই কেন তাঁরা সবার আগে দেশ ছাড়েন?
এদিকে ফারুকীর ঘনিষ্ঠ পারিবারিক সূত্রগুলো বিষয়টিকে ‘ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সফর’ বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও, সচেতন মহল তা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে। কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়া, অত্যন্ত গোপনে এবং দেশের এই অস্থির সময়ে সপরিবারে দেশত্যাগ কখনোই সাধারণ ভ্রমণ হতে পারে না বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা।
অন্তর্বর্তী সরকারের ফরেন উইং ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এই বিষয়ে এখনো দাপ্তরিকভাবে মুখে কুলুপ এঁটে রেখেছে। ফারুকী-তিশা দম্পতি অস্ট্রেলিয়া পৌঁছানোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো সাফাই গেয়ে ডিজিটাল প্রতিক্রিয়া দেখান কি না, এবং এই “পলায়ন সিন্ড্রোম” সরকারের বাকি উপদেষ্টাদের মাঝে কেমন প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে এখন দেশজুড়ে চলছে চরম কানাঘুষা।

