ঢাকা, ০৯ জুন ২০২৬
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার নাগরিকের অন্যতম মৌলিক অধিকার। সেই ধারাবাহিকতায় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে আওয়ামী লীগসহ যেকোনো নাগরিকেরই অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকছে। তবে দলটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ থাকায় দলীয় প্রতীক বা পদ-পদবি ব্যবহার করা যাবে না।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তথ্য উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, “যেহেতু আওয়ামী লীগের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছে, সে কারণে দলটির পদ-পদবি বা প্রতীক ব্যবহার করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে, যে দলেরই হোক না কেন, ব্যক্তিগতভাবে এই নির্বাচনে অংশ নিলে কারও ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকবে না।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ এদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন রাজনৈতিক দল। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন ঐতিহাসিক সংকটে এই দলের নেতাকর্মীদের অবদান অনস্বীকার্য। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে দলটির সমর্থকদের ব্যক্তিগতভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার এই সুযোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা দেশের একটি বড় মেগা প্রকল্পের আভাস দিয়ে বলেন, পদ্মা ব্যারেজের আদলেই এবার ‘তিস্তা ব্যারেজ’ নির্মাণ করে পানি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।
বর্ষা মৌসুমে ভারত থেকে আসা অতিরিক্ত পানি এই ব্যারেজের মাধ্যমে ধরে রাখা হবে, যা পরবর্তী সময়ে শুষ্ক মৌসুমে সেচকাজে ব্যবহার করা যাবে।
এই ব্যারেজ ও রিজার্ভার নির্মাণে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ হতে পারে।
সম্পূর্ণ খরচ বাংলাদেশ সরকার নিজেই বহন করতে সক্ষম। তবে এই মেগা প্রকল্পে অন্য কোনো বন্ধুভাবাপন্ন দেশ সাহায্য করতে চাইলে সেই সুযোগও উন্মুক্ত রাখা হবে।
সম্প্রতি ভারত থেকে পুশইনের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “বাংলাদেশকে কোনো রাজনৈতিক চাপে রাখার জন্য ভারত থেকে এই পুশইন হচ্ছে না। মূলত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে এই বিষয়টি ছিল এবং তাদের সেই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই এটি ঘটছে।” তবে বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই জানিয়ে তিনি বলেন, খুব শিগগিরই দুই দেশের সরকারের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।
এর আগে গত ২ জুন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছিলেন, সিটি করপোরেশনগুলোতে জনপ্রতিনিধি না থাকায় নাগরিক সেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায় সরকার।
আগামী বাজেটে নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ আসার পর, জুলাই-আগস্ট মাসের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে—কোন অঞ্চলে কবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তারও আগে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, আগামী এক বছরের মধ্যেই দেশের সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার রোডম্যাপ রয়েছে সরকারের।

