নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
৮ জুন, ২০২৬
দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পর থমথমে পরিস্থিতির মধ্যেই হঠাৎ করেই পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। গত কয়েকদিন ধরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শহরে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা একের পর এক আকস্মিক ‘ঝটিকা মিছিল’ বের করছে। নিষিদ্ধ ঘোষণার পর দলটির এই অতর্কিত ও ধারাবাহিক রাজপথের উপস্থিতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসনকে চরম এক অস্বস্তিকর ও দিশেহারা পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
গত কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হঠাৎ করেই মিছিলের খবর আসতে শুরু করেছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম মহানগরীর জিইসি মোড়, দেওয়ানহাট, নতুন ব্রিজ ও বহদ্দারহাট এলাকায় লাঠিসোঁটা ও ব্যানারসহ যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বড় ধরনের শোডাউন করেছে। অনুরূপভাবে ময়মনসিংহের ভালুকা, যশোরের বেনাপোল সীমান্ত এলাকা এবং শরীয়তপুরের ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কে হঠাৎ করেই শত শত নেতাকর্মী ব্যানার নিয়ে মিছিল বের করে। এসব মিছিলে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগান দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব মিছিলের ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এর শীর্ষ নেতারা আত্মগোপনে বা কারাগারে থাকা সত্ত্বেও কীভাবে মাঠপর্যায়ের কর্মীরা সংগঠিত হয়ে রাজপথে নামছে—তা নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে এক ধরনের চরম সমন্বয়হীনতা ও দিশেহারা ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই ঝটিকা মিছিলগুলোর আগাম তথ্য কেন সংগ্রহ করতে পারল না, তা নিয়ে খোদ সরকারের শীর্ষ মহলে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। একটি মিছিল শেষ হতে না হতেই অন্য এলাকায় আরেকটি মিছিলের খবর আসায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন উঠছে, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কীভাবে এত বড় বড় ঝটিকা মিছিল সম্পন্ন হচ্ছে।
মিছিলের ঘটনার পর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রমাণ করতে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার দেশজুড়ে কঠোর চিরুনি অভিযান শুরু করেছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) ভিডিও ফুটেজ দেখে গত ২৪ ঘণ্টায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অন্তত ৬৮ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি ময়মনসিংহ, যশোর ও শরীয়তপুরে বিশেষ টহল টিম নামানো হয়েছে এবং মিছিলের উসকানিদাতাদের ধরতে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কারা এই মিছিলের নেতৃত্ব দিচ্ছে বা ভিডিও ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে, তাদের চিহ্নিত করতে সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে সর্বোচ্চ অ্যালার্টে রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঝটিকা মিছিলগুলো মূলত সরকারের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং গোয়েন্দা ব্যর্থতাকে প্রকাশ করে দিচ্ছে। সরকার আপাতদৃষ্টিতে কঠোর অবস্থানের কথা বললেও, যেভাবে একের পর এক মিছিল হচ্ছে, তাতে প্রশাসনের ভেতরে এক ধরণের অস্থিরতা ও দিশেহারা ভাব স্পষ্ট। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে আইনশৃঙ্খলার আরও অবনতি ঘটার আশঙ্কা করছেন সাধারণ নাগরিকরা।

