স্টাফ রিপোর্টার :
দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাকশিল্প এখন গভীর সংকটে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে কারখানাগুলোতে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে রপ্তানি বাণিজ্যে।
তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিল্পে উৎপাদন সক্ষমতা এরই মধ্যে ৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
সাম্প্রতিক এক বৈঠকে বিজিএমইএ নেতারা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সামনে পোশাক খাতের বর্তমান করুণ পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তাদের মূল উদ্বেগের বিষয়গুলো হলো, লোডশেডিংয়ের সময় বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ব্যবহারের কোনো উপায় থাকছে না। কারণ, চাহিদামতো ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না।
উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের নির্ধারিত সময়ে পণ্য জাহাজীকরণ (শিপমেন্ট) করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি হুমকির মুখে পড়ছে।
বিশেষ করে গাজীপুর ও আশুলিয়ার মতো বৃহৎ শিল্পাঞ্চলগুলোতে এই সংকট এখন চরম আকার ধারণ করেছে।
জ্বালানি সংকটের প্রভাব কেবল উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি সামগ্রিক খরচকেও বাড়িয়ে দিচ্ছে যেমন, বিদ্যুৎ সংকটে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ বা কাঁচামাল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।জ্বালানির সংকটে পণ্য পরিবহনের খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
সব মিলিয়ে শিল্প মালিকরা তাদের পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছেন না।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিজিএমইএ নেতারা গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত সমাধান না হলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান এই খাত বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

