নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সমন্বয়ক এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ চট্টগ্রামে মব আক্রমণের শিকার হয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মনজুর আলমের সাথে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে এই হেনস্তার শিকার হন তিনি। তবে এই ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বইছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—যিনি নিজে বিভিন্ন সময় ‘মব’ উসকে দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত, আজ কি তিনি নিজের তৈরি করা সংস্কৃতিরই শিকার হলেন?জাতীয় যুবশক্তি এই হামলার জন্য যুবদলকে দায়ী করে বিবৃতি দিলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে ভিন্ন আলোচনা শুরু হয়েছে।
জুলাই পরবর্তী সময়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমের বিভিন্ন বক্তব্য ও অবস্থানকে সমালোচকরা ‘মব মাস্টার’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছিলেন। তাদের উসকানিতেই দেশের বিভিন্ন স্থানে মব জাস্টিস বা গণ-আদালত তৈরির সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।বিবৃতিতে যুবশক্তি দাবি করেছে, হাসনাত আব্দুল্লাহ একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও তাঁর ওপর এই হামলা রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতার পরিচয়। কিন্তু নেটিজেনদের বড় একটি অংশ মনে করিয়ে দিচ্ছে, সচিবালয় ঘেরাও থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যখন জনতা হামলা চালিয়েছিল, তখন হাসনাত আব্দুল্লাহদের অবস্থান ছিল অনেকটা উসকানিমূলক।
চট্টগ্রামের এই ঘটনায় হাসনাত আব্দুল্লাহর আহত হওয়ার খবর আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তুঙ্গে। অনেকেই বলছেন, সিস্টেমের বাইরে গিয়ে ‘মব’ দিয়ে সমাধান খোঁজার যে পথ তাঁরা দেখিয়েছিলেন, আজ সেই পথেই উল্টো বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাঁদের।প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হলেও সাধারণ নাগরিকদের মতে, রাষ্ট্রকে আইনের শাসনের পথে না এনে ‘মব’-এর ওপর ছেড়ে দিলে তার ফলাফল যে কারোর জন্যই ভয়াবহ হতে পারে—হাসনাত আব্দুল্লাহর চট্টগ্রামের এই ঘটনাটি তারই একটি জলজ্যান্ত উদাহরণ।

