বিশেষ প্রতিনিধি:
রাজনীতি করা নিজের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার উল্লেখ করে সাবেক সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিন বলেছেন, তিনি কোনো অন্যায় বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় শুনানির দিন প্রিজনভ্যান থেকে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি এ কথা বলেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) শুনানি শেষে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে প্রিজনভ্যানে তোলার পর তুহিন বলেন, “এলাকাবাসী জানে আমরা কোনো অন্যায় করি নাই, সন্ত্রাসী কার্যক্রম বা খুনের সাথে জড়িত না। শুধু রাজনীতি করেছি। হ্যাঁ, আমরা আওয়ামী লীগ করি, আওয়ামী লীগ করছি, আওয়ামী লীগ করব। আওয়ামী লীগ করার অপরাধে যদি ফাঁসিও হয়, আওয়ামী লীগই করব। জেল কত খাটাবেন? আমরা কোনো হত্যার সাথে সম্পৃক্ত না, পার্টি করেছি। এটা কি অপরাধ? প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যারা নিরাপরাধ তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। আমরা রাজনীতি করছি, এটা আমার গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার।” এ সময় তার সঙ্গে থাকা অন্য তিন নারী আসামিও নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ নামের একটি সংগঠনের জুম মিটিংয়ে অংশ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় এদিন অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে। ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরী ছুটিতে থাকায় ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোসাদ্দেক মিনহাজ আগামী ১৫ অক্টোবর শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার এনামুল হক প্রথমে শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে তদন্ত শেষে শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। বর্তমানে মামলাটিতে শেখ হাসিনাসহ ২৪৬ জন আসামি পলাতক রয়েছেন। গত ২১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকীর শুনানির মাধ্যমে মামলাটির অভিযোগ গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।
