নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশে ফেরার জোরালো পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিচ্ছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। দলের একাধিক শীর্ষ নেতার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে এবং জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষে জীবনের ঝুঁকি নিয়েও তার এই প্রত্যাবর্তন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন দলীয় নীতিনির্ধারকরা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের শেষ দিকে কিংবা দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতে পেট্রাপোল-বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এই ঐতিহাসিক যাত্রায় তার সঙ্গে পরিবারের অন্যান্য সদস্য—বোন শেখ রেহানা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল—সঙ্গে থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে দিল্লির নিজামুদ্দিন আউলিয়া ও আজমিরে খাজা মঈনুদ্দিন চিশতির দরগাহ জিয়ারতের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করে তিনি কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটিই হতে যাচ্ছে শেখ হাসিনার প্রথম সরাসরি ও প্রকাশ্য আত্মপ্রকাশ।
আগামী অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য এক আন্তর্জাতিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজ মুখেই দেশে ফেরার সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করবেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তার এই ঘোষণার প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই স্থান পেয়েছে।
শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনকে সফল করতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৬০ জন শীর্ষস্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ইতোমধ্যে কলকাতায় সমবেত হয়েছেন। সেখানে তারা নিয়মিত বৈঠক করছেন, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এছাড়া আরও ২০ জন কেন্দ্রীয় নেতাও তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করে কাজ করছেন।
আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতারা মনে করছেন, বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে এবং দলীয় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এই প্রত্যাবর্তনের কোনো বিকল্প নেই। এ প্রসঙ্গে দলীয় নেতারা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, ১৯৮১ সালেও যখন শেখ হাসিনা দেশে ফিরেছিলেন, তখন নানা সংশয় ও শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু সকল বাধা উপেক্ষা করে তিনি তৎকালীন স্বদেশে ফিরে এসেছিলেন এবং দলকে সুসংগঠিত করেছিলেন। এবারও সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে বলে তারা আশাবাদী।
দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সংকটময় এই সময়ে সঠিক নেতৃত্ব এবং সাংগঠনিক কাঠামো বজায় রাখতে জ্যেষ্ঠ নেতাদের তত্ত্বাবধানে কাজ এগিয়ে চলেছে। দলীয় সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আইনি বা প্রশাসনিক বাধা আসলে বিকল্প কৌশল হিসেবে তিনি পশ্চিমবঙ্গ থেকেই দলের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। নেত্রীর এই দূরদর্শী সিদ্ধান্ত ও সাহসিকতাপূর্ণ পদক্ষেপে বিশ্বজুড়ে থাকা প্রবাসী নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে।

