নিজস্ব প্রতিবেদক | Info Bangla
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় এক অপ্রাপ্তবয়স্ক আবাসিক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে একটি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক বা ‘বড় হুজুর’কে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর মারধরের শিকার হন অভিযুক্ত ওই শিক্ষক। গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার জামজামি ইউনিয়নের চরপাড়া জামিয়া ইসলামিয়া কওমি মহিলা মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। আটককৃত শিক্ষকের নাম আবুল কালাম আজাদ, যিনি দামুড়হুদা উপজেলার উজিরপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় শতাধিক আবাসিক ছাত্রী সম্বলিত ওই মাদ্রাসায় অভিযুক্ত আবুল কালাম আজাদ দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বড় হুজুর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। মাদ্রাসা প্রাঙ্গণেই তার স্ত্রী মহিলা শাখার শিক্ষক হিসেবে বসবাস করেন। ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা সাহানুর রহমানের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই তার মেয়েকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন ওই শিক্ষক। সর্বশেষ গত বুধবার রাতে আবাসিক শাখায় অবস্থানকালে ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর ছাত্রীর পরিবার ও স্থানীয়রা মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য হাফিজুর রহমানের কাছে জবাব চাইতে গেলে তিনি প্রমাণের অজুহাতে তাদের সঙ্গে তর্কবিতর্কে জড়ান। এতে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরো বেড়ে যায়। একপর্যায়ে শত শত এলাকাবাসী মাদ্রাসায় জড়ো হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে মারধর করে। খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিক্ষককে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আবুল কালাম আজাদ। তার দাবি, দীর্ঘ ১০-১৫ বছর ধরে তিনি শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানতুল্য স্নেহে পড়াশোনা করাচ্ছেন এবং তাকে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ফাঁসানো হয়েছে। অন্যদিকে, স্থানীয়দের একাংশ জানান যে এলাকায় ওই শিক্ষকের সুনাম রয়েছে, ফলে অভিযোগটির সত্যতা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। তারা ঘটনাটি কোনো গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ কি না, তা খতিয়ে দেখার জোর দাবি জানান।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত উপস্থিত হয়ে ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে গভীর তদন্ত চলছে এবং তদন্তের পরেই প্রকৃত সত্য প্রকাশ করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

