বিশেষ প্রতিনিধি, লালমনিরহাট:
লালমনিরহাট সরকারি কলেজে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পাবলিক ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র চুরি, টাকার বিনিময়ে তা বিক্রি এবং পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বনে (নকল সরবরাহ) একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের তীর স্থানীয় ছাত্রদলের কয়েকজন চিহ্নিত নেতার দিকে।প্রাপ্ত তথ্য ও স্থানীয়দের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ছাত্রদলের প্রভাব খাটিয়ে কলেজে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আসছে এই চক্রটি। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আগেই ফাঁস করা এবং টাকার বিনিময়ে হলে চুক্তিভিত্তিক নকল পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল কাজ।
এই চক্রটির মূল হোতা হিসেবে নাম এসেছে—৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ ইসলাম, ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্য সামিউল সাব্বির, ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্য নাহিদ রিয়াদ, এবং জাহিদ ও ইমন সহ আরও বেশ কয়েকজন।অভিযোগে আরও প্রকাশ, এই অনৈতিক বাণিজ্য থেকে অর্জিত অর্থের একটি বড় অংশ পৌঁছায় স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদলের কতিপয় প্রভাবশালী সিনিয়র নেতার পকেটে। মোটা অঙ্কের মাসোহারা ও ভাগ পাওয়ার কারণেই ওই সব নেতারা অপরাধীদের নিয়মিত আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে আসছেন।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেসবুক) প্রমাণাদিসহ এই সিন্ডিকেটের অপকর্ম নিয়ে বিভিন্ন পেজ ও আইডি থেকে লেখালেখি করা হয়েছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, সিনিয়র ছাত্রদল ও যুবদল নেতারা নিজেদের অর্থ প্রাপ্তির বিষয়টি গোপন রাখতে এবং অভিযুক্তদের বাঁচাতে সংবাদ প্রকাশকারীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। একপর্যায়ে প্রভাব খাটিয়ে সেই পোস্টগুলো মুছে ফেলতে বাধ্য করা হয়। যখনই এসব বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সরব হতে যায়, তখনই দলীয় ক্ষমতার বলে ঘটনাগুলো ধামাচাপা দেওয়া হয়।
ঘটনার মূল বিবরণ ও প্রমাণের কথা উল্লেখ করে ক্ষুব্ধ সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ছাত্র-জনতা বিএনপির স্থানীয় শীর্ষ নেতৃত্ব (বিশেষ করে দুলু সাহেব)-এর অবস্থান নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন। শিক্ষার্থীরা বলছেন, নেতৃত্ব যখন দিনরাত দুর্নীতি ও অপরাধমুক্ত সমাজের বয়ান দিচ্ছেন, তখন তাঁদের দলেরই পদধারী কর্মীরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে এমন নিকৃষ্ট অপরাধে লিপ্ত।
এমনকি অপরাধের পুরস্কার হিসেবে তাদের দলীয় বড় পদও উপহার দেওয়া হচ্ছে।লালমনিরহাটের সাধারণ ছাত্র সমাজ এখন সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। তাদের মূল প্রশ্ন—এই স্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ সামনে আসার পর দলীয় ক্ষমতার জোরে অপরাধীদের রক্ষা করা হবে এবং ঘটনাটি আবারও ধামাচাপা দেওয়া হবে, নাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক বিচার করা হবে?

