নিজস্ব প্রতিবেদক | Info Bangla
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নাক, কান, গলা ও সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আসাদুর রহমানের ওপর হামলা ও চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী চক্র “ডেভিড ইমন” গ্রুপের পরিচয় দিয়ে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে ১৫ হাজার ডলার (প্রায় ১৮ লাখ টাকা) চাঁদা দাবি করা হয়েছিল।
ধার্যকৃত নির্দিষ্ট সময়ে চাঁদার টাকা না দেওয়ায় সন্ত্রাসীরা সরাসরি তাঁর ওপর নৃশংস হামলা চালিয়ে চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা করে।
এই মধ্যযুগীয় বর্বরতার পর উল্টো আক্রান্ত চিকিৎসকের হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠিয়ে বিকৃত আনন্দে লেখা হয়, “How do you feel now?” দেশের একজন জ্যেষ্ঠ ও সম্মানিত চিকিৎসকের ওপর এমন হীন হামলায় সচেতন নাগরিক সমাজ ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলছেন—এটি কি স্বাধীন বাংলাদেশ, নাকি ফিলিস্তিনের ওপর চলা বর্বর নিপীড়নের প্রতিচ্ছবি? খোদ দেশের প্রধান সরকারি হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেখানে প্রশ্নের মুখে, সেখানে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় ধরনের আশঙ্কা।
দুষ্কৃতকারীদের দুঃসাহস কেবল হামলায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; তারা প্রকাশ্যে বার্তা দিয়ে বলেছে প্রশাসন কিংবা সাংবাদিকদের জানিয়েও কোনো লাভ হবে না, কারণ সবাই তাদের নিজেদের লোক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যমের নাম ভাঙিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনীর এমন ঔদ্ধত্য রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার দুর্বলতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতিকেই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।
সুশীল সমাজের মতে, সরকারের কাছ থেকে ক্রমাগত প্রশ্রয় পেয়ে এই ধরনের চাঁদাবাজ চক্র ও অপরাধী গোষ্ঠীগুলো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সাথে এদের কোনো নেপথ্য যোগাযোগ বা আঁতাত থেকে থাকলে তা দেশের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। দ্রুততম সময়ে এই হামলার পেছনের মাস্টারমাইন্ডদের আইনের আওতায় না আনলে দেশের চিকিৎসাসেবা খাত চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
