নিজস্ব প্রতিবেদক | Info Bangla
দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে নৃশংস হত্যাকাণ্ড। চুরি বা ডাকাতির মতো অপরাধ কিছুটা কমলেও খুনের ঘটনায় রাশ টানতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ৭ মাসে সারা দেশে খুনের মামলা হয়েছে ২ হাজার ৭৬টি। এর মধ্যে মে থেকে জুলাই—এই তিন মাসেই দেশে ৯৩৪টি খুনের ঘটনা ঘটেছে, অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ১০ জন মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন উদ্বেগজনক চিত্রে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত যথাক্রমে ২৮৭, ২৫০, ৩১৭, ২৮৮, ৩১০, ৩২৬ এবং ২৯৮টি খুনের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ছয় মাসে খুনের মামলা হয়েছে ১,৭৮৯টি, যা তার আগের ছয় মাসের চেয়ে বেশি। কেবল সাধারণ হত্যাকাণ্ডই নয়, বেড়েছে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাও। গত ছয় মাসে এই খাতে ১১,১৬৫টি মামলা হয়েছে, যা আগের ছয় মাসের তুলনায় ১,০৭৫টি বেশি। সম্প্রতি রংপুর ও মিরপুরে ঘটে যাওয়া বিভৎস হত্যাকাণ্ড এবং গত ২৩ আগস্ট কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আল আমিনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা সমাজ জুড়ে এক ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
অপরাধ বিশ্লেষক ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, ক্ষমতার আধিপত্য, পারিবারিক কলহ এবং দেশে বৈধ-অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের অবাধ বিস্তারই এই প্রাণহানির প্রধান কারণ। অপরাধ বিশ্লেষক অধ্যাপক মুহাম্মদ উমর ফারুকের মতে, অবৈধ অস্ত্রের চোরাচালান ও মানুষের হাতে হাতে অস্ত্র পৌঁছে যাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অন্যদিকে, মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য জানাচ্ছে, বছরের প্রথম সাত মাসে মব সহিংসতায় ১৩৪ জন এবং ৪০০টি রাজনৈতিক সহিংসতায় অন্তত ৭৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। মানবাধিকার কর্মী এলিনা খানের মতে, পদ-পদবি ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের দায় সরকারকেই নিতে হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় বিবাদ ও মানুষের মধ্যকার অস্থিরতা আগে থেকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হলেও পুলিশ নিরপেক্ষভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে অপরাধীদের দ্রুত কঠোর শাস্তি নিশ্চিত না করা গেলে অপরাধের এই ঊর্ধ্বগতি থামানো কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
