চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: ‘আমার মা মারা যাচ্ছে, আমি চিকিৎসা করাতে পারছি না।’—কথাগুলো বলতে বলতে ফোঁপাতে থাকেন এবং উপস্থিত চেয়ারে বসে পড়েন মো. আলাউদ্দিন। এ সময় কার্যালয়ে উপস্থিত অন্যান্য কর্মকর্তা ও আমানতকারীরা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
আজ ২৪ আগষ্ট, সোমবার নগরের হালিশহর এলাকায় অবস্থিত ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের জোনাল অফিসে এই হাহাকার ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে।
আমানতকারী মো. আলাউদ্দিন ‘সম্মিলিত ইসলামিক ব্যাংক ভুক্তভোগী আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম’ কমিটির অর্থ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, অসুস্থতার কারণে কয়েক দিন আগে মাকে হাসপাতাল থেকে বাসায় নিয়ে আসতে হয়েছে। ব্যাংকে নিজের কষ্টার্জিত আমানত জমা থাকা সত্ত্বেও জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে টাকা তুলতে পারছেন না তিনি, যার ফলে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
আলাউদ্দিনের মতো চট্টগ্রামের কেরানীহাট, মহেশখালী, পটিয়া ও আনোয়ারা সহ বিভিন্ন দূর-দূরান্তের এলাকা থেকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন ভুক্তভোগী আমানতকারী আজ এই জোনাল অফিসে জড়ো হন।
সম্মিলিত ইসলামিক ব্যাংক ভুক্তভোগী আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত নেতারা অভিযোগ করেন, গত ১০ থেকে ১৫ দিন চট্টগ্রামের বিভিন্ন শাখা সরেজমিনে পরিদর্শন করে তাঁরা সাধারণ গ্রাহকদের চরম ভোগান্তির চিত্র দেখেছেন। জরুরি চিকিৎসাসেবা, ব্যবসা ও দৈনন্দিন খরচের জন্য নিজেদের জমানো টাকা তুলতে গিয়ে বিভিন্ন শাখায় ব্যাংক কর্মকর্তাদের চরম অসহযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
আজকের এই কর্মসূচিতে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মু. আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, সহসভাপতি শারমিন আক্তার ও অর্থ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল জোনাল অফিস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসেন।
সংগঠনের সহসভাপতি শারমিন আক্তার বলেন, “আমানতকারীরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের টাকা তুলতে না পেরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জরুরি প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও চাহিদা অনুযায়ী টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা দ্রুত স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”
অ্যাসোসিয়েশনের দাবি অনুযায়ী, দীর্ঘ আলোচনা ও দাবির মুখে উপস্থিত আমানতকারীদের মধ্যে প্রায় ৬৬ জনের তৈরি হওয়া সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান করেছে জোনাল অফিস কর্তৃপক্ষ। এছাড়া অন্যান্য জরুরি আবেদনগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
