নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিক্ষোভ ও জনঅস্থিরতার আশঙ্কায় দেশের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করেছে কানাডা সরকার। রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিচারিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে যেকোনো সময় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে—এমন শঙ্কা প্রকাশ করে বাংলাদেশকে উচ্চমাত্রার সতর্কতা তালিকার আওতাভুক্ত রাখা হয়েছে।
সোমবার কানাডা সরকারের পক্ষ থেকে এই সর্বশেষ ভ্রমণ সতর্কতা জারি করা হয়। এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বরেও বাংলাদেশ নিয়ে দুই দফা সতর্কতা হালনাগাদ করেছিল দেশটি।
কানাডা সরকারের ভ্রমণসংক্রান্ত অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশে হঠাৎ করে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও জনরোষ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এর ফলে আকস্মিক যান চলাচল বন্ধ হওয়া, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অচল হয়ে পড়া এবং জনজীবনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে অবস্থানরত কানাডার নাগরিকদের বড় ধরনের জমায়েত ও রাজনৈতিক বিক্ষোভ এড়িয়ে চলার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দেশের সার্বিক পরিস্থিতির পাশাপাশি চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে কানাডা। পাহাড়ি অঞ্চলে রাজনৈতিক সহিংসতা, অপহরণ ও সশস্ত্র সংঘর্ষের উচ্চ ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে দেশটির নাগরিকদের ওই অঞ্চলে সব ধরনের ভ্রমণ সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ভ্রমণরত বা অবস্থানরত নাগরিকদের সুরক্ষায় কানাডা সরকার কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনে চলার তাগিদ দিয়েছে:
- স্থানীয় গণমাধ্যম ও খবরের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা।
- যেকোনো মুহূর্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে পারে—এটির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা।
- স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করা।
- যেকোনো ভ্রমণের পরিকল্পনা বা আপডেটের জন্য কানাডা সরকারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট নিয়মিত যাচাই করা।

