যশোর প্রতিনিধি: যশোরের অভয়নগরে একটানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় একটি পোলট্রি খামারের চার শতাধিক মুরগি মারা গেছে। এতে স্বপ্ন ভেঙে গেছে খামারের দুই তরুণ উদ্যোক্তা যমজ ভাই মো. হাসান ও মো. হোসেনের। গত শনিবার সকালে উপজেলার নওয়াপাড়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বুইকরা গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
বুইকরা গ্রামের মোহাম্মদ আলী ও মরজিনা বেগম দম্পতির সন্তান হাসান ও হোসেন। অর্থাভাবে বাবা দিনমজুরের কাজ করায় পড়াশোনা বেশিদূর এগোয়নি। বড় ভাই হাসান আকিজ ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে ডিপ্লোমা এবং ছোট ভাই হোসেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে সম্মান তৃতীয় বর্ষ পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। বহু চেষ্টা করেও চাকরি না পেয়ে বেকারত্ব ঘোচাতে ২০২৩ সালে এনজিও থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঋণ নেন তারা।
এরপর বার্ষিক ৫০ হাজার টাকা ভাড়ায় ২৫ শতাংশ জমির ওপর গড়ে তোলেন পোলট্রি খামার। কঠোর পরিশ্রমে সেই খামারেই ফিরেছিল সচ্ছলতা। পুরো পরিবার মিলে দিনরাত খামারটি পরিচর্যা করতেন।
খামারটিতে গত শুক্রবার পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সী আড়াই হাজার মুরগি ছিল। এর মধ্যে প্রায় ৫০০ মুরগি বিক্রির উপযোগী হয়ে উঠেছিল। কিন্তু গত শুক্রবার রাত ১২টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত টানা ৮ ঘণ্টা পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। প্রচণ্ড গরমে ও অক্সিজেনের অভাবে রাতের কোনো একসময়ে বিক্রির উপযোগী চার শতাধিক মুরগি মারা যায়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মো. হাসান বলেন, ‘আমাদের সব শেষ হয়ে গেল। ধারদেনা করে খামারটি করেছিলাম। ভেবেছিলাম বিক্রির টাকা দিয়ে সব দেনা শোধ করব। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় মুহূর্তেই আমাদের সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।’
তিনি আরও জানান, মুরগির খাবার ও ওষুধের দোকানসহ বর্তমানে তাদের সোয়া লাখ টাকার মতো ঋণ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবেন এবং ঋণ শোধ করবেন, তা ভেবে পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে নওয়াপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর ডিজিএম সনজিৎ কুমার মণ্ডল জানান, শুক্রবার রাতে উপজেলার সরখোলা গ্রামে বৈদ্যুতিক তারের ওপর নারিকেল গাছ ভেঙে পড়ে একটি তার ছিঁড়ে যায়। যার ফলে ওই লাইনে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। রাতের ঘটনা হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তা মেরামত করা সম্ভব হয়নি। পরে শনিবার সকালে লাইনটি মেরামত করা হয়।

