বিশেষ প্রতিনিধি: ২০২৪ সালের ছাত্র-গণআন্দোলন এবং এর নেপথ্য রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে দেওয়া তার বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তার এই বক্তব্যে আন্দোলনের প্রকৃত স্বরূপ, আন্তর্জাতিক শক্তির সম্পৃক্ততা এবং সরকার পরিবর্তনের নেপথ্য কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন সামনে এসেছে।
পডকাস্টে ফরহাদ মজহার দাবি করেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনকে কেবল সাধারণ ছাত্র আন্দোলন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার ভাষ্যমতে, আন্দোলনের একটি সংবেদনশীল সময়ে সমন্বয়কদের সঙ্গে বিভিন্ন পক্ষের দীর্ঘ আলোচনা হয় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রভাবশালী দেশগুলোর তৈরি নিরাপদ আশ্রয়ে (সেইফ হাউজ) তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই শেখ হাসিনার সরকারকে সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে ছিল এবং ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ ও কৌশলগত কারণেই এই পরিবর্তন ত্বরান্বিত হয়েছে। তার মতে, এই অভ্যুত্থানের নেপথ্যে কেবল অভ্যন্তরীণ ক্ষোভই নয়, বরং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন শক্তির সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও প্রভাব কাজ করেছে।
ফরহাদ মজহারের এই সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক মাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে।
অনেকে বলছেন দীর্ঘকাল ধরে দেশের রাজনীতি ও তাত্ত্বিক চর্চায় সক্রিয় থাকা ফরহাদ মজহারের এই বক্তব্যকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্য, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের সংঘাতে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর ভূমিকা সবসময়ই পর্দার অন্তরালে কার্যকর থাকে।
এই বক্তব্যের পর জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানের পেছনের প্রকৃত কুশীলব কারা ছিল এবং পরিবর্তনের নেপথ্যে অর্থনৈতিক বা কৌশলগত কী স্বার্থ জড়িত ছিল—তা নিয়ে জনমনে নতুন প্রশ্ন দানা বাঁধছে। বিশেষ করে, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কোন ভূ-রাজনৈতিক বলয়ে প্রবেশ করছে, তা নিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক মহলে শুরু হয়েছে গভীর চুলচেরা বিশ্লেষণ।

