নিজস্ব প্রতিবেদক | Info Bangla
পাবনা সদর উপজেলার কোমরপুর এলাকায় বাড়িতে ভূগর্ভস্থ ঘর বানিয়ে চুরি করা গরু লুকিয়ে রাখার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুটি চোরাই গরুরসহ শরিফুল ইসলাম প্রধান নামে স্থানীয় এক যুবদল কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কোমরপুর সীমান্ত বাজার এলাকায় ওই যুবদল কর্মীর নিজ বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে গরু দুটি উদ্ধার এবং তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আটককৃত শরিফুল ইসলাম প্রধান কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার আড়ুয়া বাধা এলাকার মৃত ইসমাইল প্রামাণিকের ছেলে। তবে বর্তমানে তিনি পাবনা সদরের নিবন্ধিত ভোটার এবং স্থানীয় যুবদলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মনির আহমেদের সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ও কেক খাইয়ে দেওয়ার একাধিক ছবিসহ তার নিজস্ব ব্যানার-পোস্টারের প্রমাণও প্রকাশ্যে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে সদর এলাকায় এক গৃহস্থের গরু চুরির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর মৌখিক অভিযোগের পর পুলিশ তদন্তে নামে এবং এলাকায় একটি চোরাই গরু চালানের অবস্থান সম্পর্কে গোপন তথ্য পায়। এর পরই শরিফুলের বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে ভূগর্ভস্থ গোপন কক্ষটির সন্ধান পাওয়া যায়। সেখান থেকেই দুটি গরুসহ তাকে আটক করা হয়।
অভিযুক্তের সঙ্গে ছবি থাকার বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মনির আহমেদের কোনো মন্তব্য পাওয়া না গেলেও জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইলিয়াস আহমেদ হিমেল রানা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তার বিচার হওয়া উচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দল কখনো অপরাধ তৈরি করে না; বরং অপরাধীরা সুযোগ বুঝে সংগঠনে গা ঢাকা দেয়। এসব ব্যক্তির অপরাধের দায় কোনোভাবে দল বহন করবে না। নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে তা অপব্যবহার করার প্রবণতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, পরিচয় উন্মোচনের পর কাউকে কোনো ধরনের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার সুযোগ নেই।
ঘটনার বিষয়ে পাবনা সদর থানার ওসি তারিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত শরিফুলের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় তার জানা নেই, তবে সে একজন চিহ্নিত গরুচোর। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে এই চুরি চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনের নাম প্রকাশ করেছে, যাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, উদ্ধার হওয়া দুটি গরুর মধ্যে একটির প্রকৃত মালিকের সন্ধান পাওয়া গেছে। তার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়েরসহ আইনগত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
