নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর কাফরুল থানা এলাকায় যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা (ডিবি) মিরপুর বিভাগ ও কাফরুল থানা পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো— মোঃ নাহিদ হাসান (২১), মোঃ শাফিন আহমেদ (২২), মোঃ জিয়ারুল মোল্লা (৩৯), মোঃ আলী হোসেন (৪৫), মোঃ জিহাদ মোল্লা (৩০), মোঃ মাসুম বিল্লাহ (২৮) ও মোঃ আবির হাওলাদার (২৫)।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে ‘সিএনজি হাফিজ’। তিনি তার রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষ হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যা করার জন্য পেশাদার খুনি ভাড়া করেন।
গত ২৯ জুন আসামিরা ঢাকায় এসে মিরপুর-১০ এলাকার বৈশাখী হোটেলে অবস্থান নেয়। পরে সিএনজি হাফিজের গ্যারেজে অস্ত্র লোড করার সময় আকস্মিক ‘মিসফায়ার’ হলে সেদিনের পরিকল্পনা স্থগিত হয়। তবে তারা লক্ষ্যবস্তু হাফিজুল ইসলাম বাবুর অফিস রেকি করে এবং অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যার যার এলাকায় ফিরে যায়।
২২ জুলাই সিএনজি হাফিজের নির্দেশে তারা আবারও ঢাকায় ফিরে মিরপুর-২ এর সোনালী হোটেলে ওঠে। ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় গ্যারেজ থেকে দুটি লোডেড পিস্তল নিয়ে আসামিরা হাফিজুল ইসলাম বাবুর অফিসের সামনে অবস্থান নেয়।
গত ২৪ জুলাই (শুক্রবার) রাত আনুমানিক ১১:১০ ঘটিকায় কাফরুলের ওপেক্স গার্মেন্টসের দক্ষিণ পাশে লিংক রোডের মাথায় হাফিজুল ইসলাম বাবু তার নেতাকর্মীদের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। ওই সময় সন্দেহভাজন কয়েকজনকে দেখে তিনি তাদের পরিচয় জানতে চান এবং তল্লাশির চেষ্টা করেন।
এ সময় ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। গুলিতে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ, সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মো. মনির হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইউসুফকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্য দুজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পরপরই পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় জনতা আবির হাওলাদার নামের এক সন্ত্রাসীকে অস্ত্রসহ ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এরপর নিহত ইউসুফের বড় ভাই বাদী হয়ে কাফরুল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তে নেমে গত ২৫ জুলাই ডিবির একটি টিম মিরপুর থেকে নাহিদ ও শাফিনকে গ্রেফতার করে। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাগুরার শালিখা থেকে জিয়ারুল এবং মিরপুর থেকে আলী হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। অপরদিকে কাফরুল থানা পুলিশ শরীয়তপুর থেকে জিহাদ মোল্লা এবং যশোরের বাঘারপাড়া থেকে মাসুম বিল্লাহকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

