নিজস্ব প্রতিবেদক | Info Bangla
জাতীয় গ্যাস সরবরাহ লাইনে চরম বিপর্যয়ে নরসিংদী, আশুলিয়া ও গাজীপুরের শিল্প এলাকাগুলোতে গ্যাসের চাপ শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতিপূর্বে যেখানে ৭০ থেকে ৮০ পিএসআই চাপ থাকত, তা এখন কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২০ থেকে ২৫ পিএসআইয়ে। কোনো সাব-হেডিং বা বিভাজন ছাড়া বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করলে স্পষ্ট হয় যে, আমদানিনির্ভরতা ও দীর্ঘদিন দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে অবহেলাই আজকের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির প্রধান কারণ।
গত ছয় বছরে দেশীয় উৎপাদন প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট হ্রাস পাওয়ায় দেশ দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) ওপর চরমভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল। ফলে যেকোনো একটি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলেই পুরো জাতীয় গ্রিড ও অর্থনীতি থমকে দাঁড়াচ্ছে।জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম ও ড. ইজাজ হোসেনের মতে, সরবরাহে কোনো বিকল্প বা অতিরিক্ত সক্ষমতা (বাফার ক্যাপাসিটি) না থাকা এবং ভূগর্ভস্থ অনুসন্ধানে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না করাই এই দীর্ঘমেয়াদি ভঙ্গুরতার জন্য দায়ী। যদিও সরকার ১০০টি নতুন গ্যাসকূপ খনন, মাতারবাড়ীতে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং অতিরিক্ত এফএসআরইউ যুক্ত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, তবে তাৎক্ষণিক সংকটে দেশের শিল্প খাত এখন মারাত্মক অস্তিত্ব সংকটে। পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাবে শিল্পকারখানার উৎপাদন আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হচ্ছে, যার ফলে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, সরকারের রাজস্ব হ্রাস, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং সার্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এই সার্বিক পরিস্থিতিতে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন জানান, জ্বালানির অনিয়মিত সরবরাহের কারণে পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি আদেশ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। উদ্যোক্তারা উচ্চ মূল্য পরিশোধ করেও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস পাচ্ছেন না, যা নতুন বিনিয়োগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। কেবল এলএনজি আমদানি বাড়িয়ে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়, কারণ এতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহে একটি স্বচ্ছ অগ্রাধিকার কাঠামো তৈরি করা, অপচয় ও অবৈধ সংযোগ বন্ধ করা এবং অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান জোরদার করে জ্বালানি নিরাপত্তাকে শিল্প ও রপ্তানি নীতির সাথে সমন্বিত করা এখন সময়ের দাবি।

