নিজস্ব প্রতিনিধি :
রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান বিতর্ক ও নানা মন্তব্যের জবাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছেন দলের কার্যনির্বাহী সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। সম্প্রতি এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর চলা দমন-পীড়নের তীব্র নিন্দা জানান।
মোহাম্মদ আলী আরাফাত তার বক্তব্যে ৫ আগস্টের পর থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর চালানো নির্যাতন ও সহিংসতার কঠোর চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অভ্যুত্থানের পর থেকে হাজারেরও বেশি নেতাকর্মীকে হত্যা, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া, বিচারবহির্ভূতভাবে দীর্ঘকাল কারাগারে আটকে রাখা এবং ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে প্রতিপক্ষ দলগুলো বা সরকার আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক ও মানসিকভাবে ধ্বংস করার চেষ্টা চালিয়েছে। এছাড়া পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ঐতিহাসিক ভবনে ভাঙচুর এবং কেবল ছাত্রলীগকে যুক্ত করার কারণে শত শত শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন হুমকির মুখে ফেলার মতো বিষয়গুলোও তিনি জোরালোভাবে সামনে এনেছেন।
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জুলাই ও আগস্টের সময়কালে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নির্মমভাবে হত্যা করা হলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর বিচার করা হয়নি। উল্টো একদলীয় ও একতরফা ব্যবস্থার মাধ্যমে বিচারহীনতার সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখা হয়েছে এবং ইনডেমনিটি বা দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
নেতাকর্মীদের ওপর চলা এহেন নির্যাতন ও নিপীড়নের পর আওয়ামী লীগের অনুশোচনা করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি বলে মন্তব্য করেন সাবেক এই মন্ত্রী। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, দলটির ওপর লাগাতার জুলুম-অত্যাচার চালিয়ে এখন অনুশোচনা চাওয়া সম্পূর্ণ অমূলক। বরং আওয়ামী লীগ এখন সকল অন্যায় ও নিপীড়নের অবসান ঘটিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার এবং সংবিধানসম্মত উপায়ে সুবিচার নিশ্চিত করার কথা ভাবছে।
পরিশেষে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগকে প্রশ্নবিদ্ধ করার আগে বিরোধী পক্ষ বা সংশ্লিষ্টদের নিজেদের অপকর্ম ও দমন-পীড়নের জন্য অনুশোচনা করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন মোহাম্মদ আলী আরাফাত।

