নিজস্ব প্রতিবেদক | Info Bangla
নাটোর: জেলা যুবলীগের কর্মী নিহার বিশ্বাস যুবলীগের ব্যানারে মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন—এই ‘অপরাধে’ তার বাড়িতে চড়াও হয় একদল দুর্বৃত্ত। বাড়িতে তাকে না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে তারা। তাণ্ডবের একপর্যায়ে মায়ের বুক থেকে কেড়ে নেওয়া হয় চার মাসের নিষ্পাপ শিশু সন্তানকে। এরপর কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই অবোধ শিশুটিকে নির্মমভাবে ছুড়ে ফেলা হয় শক্ত মাটিতে। নাটোরের এই হাড়হিম করা সহিংসতার শিকার হয়ে ছোট্ট রামিন এখন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়ছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিহার বিশ্বাসকে বাড়িতে না পেয়ে হামলাকারীরা ঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় তার স্ত্রী ভয়ে কোলে থাকা শিশু রামিনকে জড়িয়ে ধরে আকুতি জানালেও মন গলেনি হামলাকারীদের। প্রকাশ্য দিবালোকে মায়ের কোল থেকে শিশুটিকে কেড়ে নিয়ে মাটিতে আছাড় দেয় তারা। শিশুটির আর্তনাদ ও মায়ের বুকফাটা কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠলেও রেহাই মেলেনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে হাসপাতালের আইসিইউতে শিশুটি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বরত চিকিৎসকরা।
একটি নিষ্পাপ শিশু রাজনীতি বোঝে না, মিছিল বোঝে না, কিংবা বোঝে না কোনো দলীয় হিসাব-নিকাশ। তার কাছে মায়ের বুকটাই একমাত্র নিরাপদ আশ্রয় ও বিশ্ব সংসার। সেই স্বর্গীয় আশ্রয় থেকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে একটি ফুটফুটে শিশুকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার এই নৃশংসতায় হতবাক ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। রাজনৈতিক হানাহানি ও প্রতিহিংসার বলি কেন একটি অবোধ শিশু হবে—সেই প্রশ্নে এখন ভারী নাটোরের বাতাস। আইনের শাসন ও মানবিকতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ঘটানো এই পৈশাচিক ঘটনার বিচার আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে জমেছে তীব্র ক্ষোভ ও রক্তক্ষরণ। বাংলাদেশ আজ দেখছে ক্ষমতার মোহে অন্ধ হিংস্রতার এক বিভৎস রূপ, যা স্তব্ধ করে দিয়েছে বিবেকবান মানবতাকে।

