নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে একযোগে ১৪ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নজিরবিহীন বদলি ও পদোন্নতি সম্পন্ন হয়েছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর সেনাসদর দপ্তরের দুটি গোপন আদেশের মাধ্যমে ডিজিএফআই, গুরুত্বপূর্ণ পদাতিক ডিভিশন, আকাশ প্রতিরক্ষা ফর্মেশন এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে এই ব্যাপক রদবদল আনা হয়।
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের নির্দেশনায় জারিকৃত এই আদেশগুলোতে পাঁচজন মেজর জেনারেল এবং নয়জন ব্রিগেডিয়ার, কর্নেল ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আকস্মিক এই পদায়ন সামরিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ডিজিএফআই সদর দপ্তরে কর্মরত কর্নেল এম শফিকুল রহমানকে ঘাটাইলের এরিয়া সদর দপ্তরে কর্নেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন হিসেবে বদলি করা হয়েছে। অন্যদিকে, আর্টডকের কর্নেল সৈয়দ ফারহান ইবনে হাফিজকে ডিজিএফআই-এর কর্নেল জেনারেল স্টাফ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
পদাতিক পরিদপ্তরের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মোহতাশিম হায়দার চৌধুরীকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে ৩৩তম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিআইআরসি থেকে মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আফতাব হোসেনকে ১৭তম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি করা হয়েছে।
মেজর জেনারেল মো. নাজিম-উদ-দৌলাকে বিআইআরসি-র কমান্ড্যান্ট এবং মেজর জেনারেল মো. সাজেদুর রহমানকে এসডিএস (আর্মি), এনডিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ৪৬তম স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডের দায়িত্ব পেয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির।
৬ স্বতন্ত্র এয়ার ডিফেন্স ব্রিগেড এবং অ্যাডহক আর্মি এয়ার ডিফেন্স সেন্টার অ্যান্ড স্কুলের মধ্যে জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বে পারস্পরিক বদলি করা হয়েছে। এছাড়া লেফটেন্যান্ট কর্নেল থেকে কর্নেল পদে পদোন্নতি পেয়ে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ কর্নেল স্টাফ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
নথিগুলোতে এই রদবদলের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়নি। তবে ফিল্ড কমান্ড, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং প্রশিক্ষণ কাঠামোর মতো স্পর্শকাতর নোডগুলোতে একই সাথে এতগুলো পরিবর্তন আসায় এটি কেবল রুটিন পদায়ন নয়, বরং সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ নেতৃত্ব কাঠামোতে একটি সুদূরপ্রসারী কৌশলগত পুনর্গঠন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

