চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আরমান উদ্দিন ও তাঁর ভাই আরিফ উদ্দিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে চাঁদাবাজি ও সম্পত্তি দখলের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গতকাল ২৩ আগস্ট, রোববার চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লোহাগাড়ার পশ্চিম কলাউজান এলাকার বাসিন্দা আমির হোসেন বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে বিস্তারিত তদন্ত পরিচালনা করে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন।
২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও রাতের আঁধারে দোকান লুট
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বাদী আমির হোসেনের লোহাগাড়ায় অবস্থিত ‘আজিজ কমপ্লেক্স’ নামের চারতলা ভবনের নিচতলার একটি আলমারির দোকান ও বসতঘর ভাড়া দেওয়া ছিল। অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে বাদীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন এবং চাঁদা না দিলে ভবন দখলের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
গত ৩ এপ্রিল রাত আনুমানিক দুইটার দিকে মোবাইল ফোনে চাঁদা দাবি করার পর বাদীর অস্বীকৃতিতে অভিযুক্তরা আজিজ কমপ্লেক্সের নিচতলার ভাড়াটিয়া ওবায়দুলের আলমারির দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। দোকান থেকে প্রায় ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ টাকা মূল্যের স্টিলের আলমারি ও শোকেস এবং ক্যাশ টেবিলে থাকা নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে নতুন তালা লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি
ঘটনার সময় বাদী বিদেশে ছিলেন। দেশে ফিরে ২০ আগস্ট সকাল আনুমানিক নয়টার দিকে অভিযুক্তদের সঙ্গে বৈঠকে বসলে আরিফ উদ্দিন পুনরায় ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে ঘর ও দোকান ফেরত দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়। মোবাইল ফোনে আরমান উদ্দিন বাদীকে তাঁদের কথামতো চলার নির্দেশ দেন এবং অন্য অভিযুক্ত আদিল চাঁদা না দিলে বাদীকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। একপর্যায়ে আসামিরা বাদীকে এলোপাতাড়ি মারধর ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে।
থানায় প্রথমে আইনি প্রতিকার না পেয়ে পরবর্তীতে বাদী আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হন।
ফোনালাপ ফাঁস ও প্রশাসনিক প্রভাবের অভিযোগ
অভিযুক্ত আরমান উদ্দিনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-এর পটপরিবর্তনের পর প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর সমন্বয়ের সুযোগে প্রভাব খাটিয়ে লোহাগাড়ার ব্যবসায়ী অপহরণ, মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি এবং বালু ব্যবসার জন্য ডিও লেটার পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
গত ১৮ আগস্ট আরমান উদ্দিনের একটি ফোনালাপ প্রকাশ্যে আসে। ওই কথোপকথনে লোহাগাড়ায় বালু ব্যবসা চালু রাখতে স্থানীয় থানা ও উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করা এবং উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে সমঝোতার বিষয় উঠে আসে। একই ফোনালাপে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে এলাকায় এলে পায়ে গুলি করার হুমকির বিষয়ে প্রতিবাদ না করে, উল্টো তাকে এলাকায় আসতে নিষেধ করে নিজেকে এলাকার মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে উপস্থাপন করেন আরমান।

