নিজস্ব প্রতিবেদক, আশুলিয়া: সাভারের আশুলিয়ায় চলমান ছুটির সুযোগ নিয়ে একযোগে ৫৬৫ জন পোশাক শ্রমিককে ছাঁটাই করেছে একটি কারখানা কর্তৃপক্ষ। বৈশ্বিক মন্দা, পর্যাপ্ত কার্যাদেশের অভাব, ব্যাংকিং সহযোগিতার ঘাটতি এবং তীব্র গ্যাস সংকটের কারণ দেখিয়ে এই অমানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত শুক্রবার (৮ আগস্ট) সকালে আশুলিয়ার পুকুরপাড় এলাকায় অবস্থিত রপ্তানিমুখী অ্যালায়েন্স নিট কম্পোজিট লিমিটেড-এর মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগ থেকে এই নোটিশ জারি করা হয় এবং পরদিন শনিবার থেকেই তা কার্যকর করা হয়।
কারখানা সূত্রে জানা যায়, কারখানাটির সুইং শাখার অপারেটরসহ বিভিন্ন পদের ৫৬৫ জন শ্রমিক তিন দিনের ছুটি পেয়ে নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ছুটির মাঝপথেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাঁরা জানতে পারেন যে তাঁদের চাকরি আর নেই। হঠাৎ এমন আকস্মিক ঘোষণায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারগুলো।
দিনাজপুরের বাড়িতে ছুটি কাটাতে যাওয়া সুইং অপারেটর মো. জিয়ারুল হক বলেন, “তিন দিনের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার পর মোবাইল ফোনে ছাঁটাইয়ের নোটিশ পেয়েছি। কেন আমাকে হঠাৎ ছাঁটাই করা হলো, তার কোনো সদুত্তর নেই। পরিবার নিয়ে এখন আমি চরম দুশ্চিন্তায় আছি।”
কর্তৃপক্ষের দাবি, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর ধারা ২০ অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এই ছাঁটাই করা হয়েছে। চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী শ্রমিকদের আইনগত পাওনা ও ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করা হবে। এছাড়া শ্রম আইনের ধারা ২১ অনুযায়ী, আগামী এক বছরের মধ্যে কারখানার কাজের পরিধি বৃদ্ধি পেলে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনরায় কাজে নেওয়ার সুযোগ থাকবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাঈম আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, কারখানায় বর্তমানে কোনো পর্যাপ্ত অর্ডার বা কাজ নেই। বাধ্য হয়েই কারখানার অস্তিত্ব রক্ষার্থে শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে। কাজের অর্ডার এলে পরবর্তীতে আবার শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হবে।
তবে ছুটির দিনে এমন আকস্মিক ও গণছাঁটাইয়ের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলো। বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, “ব্যবসায়িক মন্দার অজুহাত দেখিয়ে ছুটির মধ্যে একযোগে এত শ্রমিক ছাঁটাই সম্পূর্ণ অমানবিক।” তিনি অবিলম্বে এই ছাঁটাই নোটিশ প্রত্যাহার, শ্রমিকদের পুনর্বহাল এবং বকেয়া বেতনসহ সকল পাওনাদি পরিশোধের জোর দাবি জানান।
শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পরিচালক মমিনুল ইসলাম বলেন, পর্যাপ্ত কার্যাদেশ না থাকা এবং গ্যাস সংকটের কারণে সৃষ্ট ব্যবসায়িক মন্দার জেরে কারখানাটি কিছু শ্রমিক ছাঁটাই করেছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। হঠাৎ নেওয়া এই সিদ্ধান্তে শিল্পাঞ্চলে নতুন করে অসন্তোষ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

