অনলাইন ডেস্ক | ঢাকা
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বাসা থেকে একটি ছাগল নিয়ে জবাই করে খাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে—ছাগলটি আসিফ নজরুলের ৯ বছর বয়সী মেয়ের পোষা ও খেলার সঙ্গী ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
সম্প্রতি সাংবাদিক খালেদ মহিউদ্দিনের একটি অনুষ্ঠানে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে গিয়ে ঘটনাটি জানান আসিফ নজরুল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, উপদেষ্টা থাকার সময় তাঁর বাসা থেকে ছাগলটি নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে সেটি জবাই করা হয়।
আসিফ নজরুল বলেন, ছাগলটির সঙ্গে তাঁর ৯ বছর বয়সী মেয়ের গভীর সখ্য ছিল। এমনকি মেয়েটি ফোনে বাবা-মায়ের ছবির পরিবর্তে ওই ছাগলের ছবি রেখেছিল। ছাগলটি হারিয়ে যাওয়ার পর মেয়েটি এতটাই ভেঙে পড়ে যে কান্না করতে করতে বমি করে এবং প্রায় দেড় দিন তাকে কিছু খাওয়ানো সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আসিফ নজরুলের কণ্ঠও আবেগে ভারী হয়ে আসে।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী প্রথমে বটি দিয়ে ছাগলটির গলা কাটার চেষ্টা করেন। এতে সুবিধা না হওয়ায় পরে কারওয়ান বাজার থেকে একটি ধারালো ছুরি আনা হয় বলে তিনি দাবি করেন। এরপর ছাগলটি জবাই করে তার মাংস খাওয়া হয়।
এদিকে লেখক রাজীব হাসানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ঘটনাটি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর বাসায় গিয়ে বিষয়টি হাস্যরসের সঙ্গে বর্ণনা করেছিলেন। তাঁর পোস্টে আরও দাবি করা হয়, ছাগলটি আসিফ নজরুলের নয়, তাঁর মেয়ের—এ বিষয়টি সংশ্লিষ্টরা জানতেন।
ঘটনাটি সামনে আসার পর নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে একটি শিশুর কাছে পোষা প্রাণীটি যে নিছক একটি প্রাণী নয়, বরং একজন বন্ধুর মতো—সেই বিষয়টি সামনে এনে অনেকেই ঘটনাটির মানবিক দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
তবে এ বিষয়ে নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর বক্তব্য বা ঘটনার স্বাধীন কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

