নিজস্ব প্রতিবেদক: হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত থাকায় এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ বাতিলের মেয়াদ বাড়িয়েছে কাতারএনার্জি। চলমান নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি জায়ান্টটি।
ব্লুমবার্গ ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে দোহ নিউজ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় কাতারএনার্জি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জানিয়েছে, এলএনজি কার্গো বাতিল ও সরবরাহ স্থগিতের জরুরি অবস্থা বা ‘ফোর্স মেজার’ অব্যাহত থাকবে।
এর আগে চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানি ক্রেতাদের জানানো হয়েছে যে, এলএনজি কার্গো বাতিলের এই সিদ্ধান্ত অক্টোবর মাস পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। একইভাবে বাংলাদেশে গ্যাস সরবরাহের ওপর আরোপিত জরুরি অবস্থার মেয়াদও সেপ্টেম্বরের পর দীর্ঘায়িত করা হয়েছে। ইউরোপীয় ক্রেতারাও একই ধরনের নোটিশ পেতে শুরু করেছেন।
এদিকে ইতালীয় ইউটিলিটি কোম্পানি এডিসন নিশ্চিত করেছে যে, কাতারএনার্জির সাথে তাদের এই অনিবার্য পরিস্থিতির মেয়াদ ২০২৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এডিসনকে কাতারএনার্জি জানিয়েছে, ইতালির অ্যাড্রিয়াটিক এলএনজি টার্মিনালে নির্ধারিত অতিরিক্ত পাঁচটি কার্গো সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। এ নিয়ে শুধু এডিসনেরই ক্ষতিগ্রস্ত কার্গোর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯টিতে। তবে কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা প্রতিশ্রুতি পূরণে বিকল্প ব্যবস্থার সন্ধান করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ায় বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে বাংলাদেশ এই পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

