ডেস্ক রিপোর্ট:
ভারতের আদানি পাওয়ারের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি দামে চীন থেকে বিদ্যুৎ কেনার খবরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, আদানি থেকে যেখানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ আমদানি করতে গড় খরচ পড়ে ১৪ টাকা ৮৬ পয়সা, সেখানে চীন থেকে ২৫ টাকা দরে বিদ্যুৎ কেনার পরিকল্পনা প্রকাশ পেয়েছে।
সম্প্রতি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম চীন সরকারের সাথে বৈঠক শেষে জানান, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সহ দেশে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কাজ করতে চায় চীন। এই প্রক্রিয়ায় চীনের কাছ থেকে প্রতি ইউনিট ২৫ টাকা দরে বিদ্যুৎ কেনা হবে।
অন্যদিকে, বিপিডিবির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী (২০২৪-২৫ অর্থবছর), ভারতের আদানি পাওয়ার থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে বাংলাদেশের গড় ক্রয়মূল্য পড়েছে ১৪ টাকা ৮৬ পয়সা। আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার মূল্যের তারতম্যের ওপর ভিত্তি করে এই দাম গড়ে ১২.১৬ মার্কিন সেন্ট বা ১৪ থেকে ১৫ টাকার আশেপাশে ওঠানামা করেছে।
ভারতের আদানির বিদ্যুতের তুলনায় চীন থেকে কিনতে যাওয়া বিদ্যুতের দর প্রতি ইউনিটে প্রায় ১০ টাকা বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের অতিরিক্ত ক্রয়মূল্য সার্বিক জ্বালানি খাতের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।
বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতের বিশাল বকেয়া মেটানোর চাপের মধ্যে চড়া মূল্যে বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তিগুলো সাধারণ গ্রাহকের ওপর মূল্যবৃদ্ধির হিসেবে গিয়ে ঠেকবে কি না—তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

