বিশেষ প্রতিনিধি:
আজ ২০ আগস্ট। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক চিরভাস্বর ও শোকাবহ দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান। পাকিস্তানি বাহিনীর আধুনিক যুদ্ধবিমান ছিনতাই করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার দুঃসাহসিক চেষ্টা চালাতে গিয়ে তিনি শহীদ হন।
১৯৪১ সালের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার ২৯ নম্বর আগা সাদেক রোডের ‘মোবারক লজ’-এ জন্ম নেন মতিউর রহমান। ১৯৬১ সালে পাকিস্তানি বিমান বাহিনীতে যোগ দেন এবং পাকিস্তান বিমান বাহিনীর একজন সফল ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি করাচির মসরুর বিমানঘাঁটিতে অবস্থান করছিলেন। দেশের মুক্তির সংগ্রামে অংশ নিতে তিনি এক ঝুঁকিপূর্ণ ও ঐতিহাসিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট সকালে করাচির মসরুর বিমানঘাঁটি থেকে টি-৩৩ (যাকে ‘ব্লু বার্ড’ বলা হতো) প্রশিক্ষণ বিমানে ওঠেন পাকিস্তানি শিক্ষার্থী পাইলট রশীদ মিনহাজ। বিমানটি রানওয়ে থেকে উড্ডয়নের মুহূর্তে মতিউর রহমান রশীদ মিনহাজকে কাবু করে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল বিমানটি নিয়ে ভারতের মুক্তাঞ্চলে পৌঁছানো, যাতে সেটি মুক্তিযোদ্ধাদের বিমান বহরে যুক্ত করা যায়।
তবে সীমান্ত অতিক্রম করার মাত্র কয়েক কিলোমিটার পূর্বে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের কাছে সিন্ধু নদের থাট্টা এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এতে মতিউর রহমান শাহাদাতবরণ করেন এবং রশীদ মিনহাজও নিহত হন।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সরকার মতিউর রহমানের এই অতুলনীয় বীরত্ব ও সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাব প্রদান করে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ২০০৬ সালের ২৪ জুন তাঁর দেহাবশেষ পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের আত্মত্যাগ আজও প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে দেশপ্রেমের অগ্নিশিখা হিসেবে জাগ্রত। দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় তাঁর অবদান জাতি চিরকাল গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে।
