বিশেষ প্রতিনিধি:
বাংলাদেশে উগ্রবাদ ও চরমপন্থার সম্ভাব্য উত্থান নিয়ে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তার মধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে এক বিতর্কিত ইসলামিক আলোচনার আয়োজন ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আইএসের (আইএসআইএস) পক্ষে যুদ্ধ করতে সিরিয়া যাওয়ার পরিকল্পনা ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া আসিফ আদনানকে অমর একুশে হলের মসজিদে আয়োজিত একটি সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে দেখা গেছে।
জাতিসংঘ যখন বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের পুনরুত্থান ও উগ্রবাদী ভাবধারার ছড়ানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বৈশ্বিক সতর্কতা দিয়ে আসছে, ঠিক সেই সময়েই দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন একজন ব্যক্তির উন্মুক্ত বক্তব্য দেওয়া নিয়ে সচেতন শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ঘটনার পটভূমি ও বিতর্ক:
সম্প্রতি অমর একুশে হল সংলগ্ন মসজিদে আয়োজিত উক্ত আলোচনায় আসিফ আদনান প্রধান আলোচনা উপস্থাপন করেন। ঘটনাটি জানাজানি হতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তোলপাড় শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলছেন, আন্তর্জাতিক মহলে যখন উগ্রবাদ নিয়ে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে, তখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কীভাবে অতীতে উগ্রবাদে গ্রেফতার হওয়া একজন ব্যক্তিকে দিয়ে হলের অভ্যন্তরে আলোচনার সুযোগ দিল।
কে এই আসিফ আদনান?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আসিফ আদনান সাবেক এক বিচারপতির সন্তান। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে অপর এক সহযোগীসহ গ্রেফতার করে। তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, তিনি ও তাঁর সহযোগীরা চরমপন্থায় অনুপ্রাণিত হয়ে নিষিদ্ধ আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের মাধ্যমে সিরিয়ায় আইএসের হয়ে লড়াই করতে যাওয়ার ছক কষছিলেন। পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্ত হন। বর্তমানে তিনি নিজেকে ইসলামিক লেখক, গবেষক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন।
জাতিসংঘের সতর্কতা ও নিরাপত্তা শঙ্কা:
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে যে, কৌশলগতভাবে উগ্রবাদী দলগুলো তাদের চিন্তাধারা সাধারণ তরুণের মাঝে ছড়িয়ে দিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় মঞ্চকে ব্যবহার করতে পারে। এই সতর্কবার্তার পরেই ঢাবি ক্যাম্পাসে এমন একজনের বক্তব্য প্রদানকে সার্বিক জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক বড় ধরনের সংকেত হিসেবে দেখছেন নিরাপত্তাবিশ্লেষকরা।
উদ্বেগ প্রকাশ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে উগ্রবাদী মতাদর্শের প্রচার বা অতীতে জঙ্গি সম্পৃক্ততায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া ক্যাম্পাসের অসাম্প্রদায়িক ও নিরাপদ পরিবেশকে হুমকিতে ফেলতে পারে। তবে এ বিষয়ে হল বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো স্পষ্টীকরণ এখনো পাওয়া যায়নি।

