নিজস্ব প্রতিবেদক | Info Bangla
রাজনৈতিক মতভিন্নতা যখন ব্যক্তিগত জীবনে চরম অবিচার আর সহিংসতার রূপ নেয়, তখন তার মাশুল গুনতে হয় এক নিরপরাধ পরিবারকে। দীর্ঘ সাত মাস ধরে স্বামী কারাবন্দি—একদিকে অভাব-অনটনের সংসার সামলানো, অন্যদিকে অসুস্থ কোলের শিশুকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটানো। ঠিক এমন এক সংকটময় মুহূর্তে আওয়ামী লীগ পন্থী হিসেবে পরিচিত তাকওয়া তুল মাইসা নামে এক নারীর বাড়িতে চালিয়ে যাওয়া হলো নৃশংস ও নেক্কারজনক হামলা। গতকালের এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন ও মর্মান্তিক পোস্ট শেয়ার করেছেন।
নিজের ওপর নেমে আসা এই তান্ডব ও সামাজিক নিরাপত্তার দৈন্যদশা তুলে ধরে তিনি লেখেন, “আমার স্বামী হাবিব আজ দীর্ঘ ৭ মাস ধরে জেলে। একদিকে স্বামীকে ছাড়া টানাপোড়েনের সংসার, অন্যদিকে অসুস্থ ছোট্ট বাবুকে নিয়ে প্রতিনিয়ত দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে। এর মধ্যেই গতকাল আমার বাড়িতে যে নৃশংস ও নেক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”
একটি গণতান্ত্রিক সমাজের মূল ভিত্তি যেখানে ভিন্ন মত ও রাজনৈতিক আদর্শের সহাবস্থান, সেখানে একজন অসহায় নারী ও তার অসুস্থ শিশুর নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়া চরম উদ্বেগজনক। হামলায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ও মানবিকতার প্রতি প্রশ্ন তুলে তিনি আরও আকুতি জানান, “আমি একজন অসহায় স্ত্রী ও মা—আমার ঘর, আমার সন্তান, আমার পরিবারকে কেন এই ভয়-ভীতি আর হামলার শিকার হতে হবে? মতের অমিল থাকতে পারে, রাজনৈতিক বিশ্বাস ভিন্ন হতে পারে; কিন্তু একটি অসুস্থ শিশুর পরিবারকে এভাবে আঘাত করা কোনোভাবেই মানবিকতার পরিচয় নয়।”
সব ধরনের অন্যায়-অত্যাচারের মুখোমুখি হয়েও তিনি মানুষের আইনের ওপর নয়, বরং সৃষ্টিকর্তার ওপরই শেষ আস্থা রেখেছেন। হামলাকারীদের কঠোর হুঁশিয়ারি ও ধর্মীয় বিশ্বাসের বাণী স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি যোগ করেন, “যারা এই অন্যায়-অত্যাচার করেছেন, মনে রাখবেন—মানুষের চোখ ফাঁকি দেওয়া গেলেও আল্লাহর বিচার থেকে কেউ রেহাই পাবে না। আল্লাহ সব দেখছেন, আল্লাহই এর সঠিক বিচার করবেন।” ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে একজন অসুস্থ সন্তানের মা ও তার পরিবারের ওপর এমন হামলা দেশের সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবিক মূল্যবোধের চরম অবনতিকেই নির্দেশ করছে।
