নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ১১ আগস্ট ২০২৬
কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প-কারখানার উৎপাদন এবং সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাস সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়ন থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার গভীর সমুদ্রে স্থাপিত সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির দুটি ভাসমান এলএনজি (LNG) টার্মিনাল থেকেই মূলত জাতীয় গ্যাস গ্রিডে এই গ্যাস সরবরাহ করা হয়। স্বাভাবিক সময়ে এই দুই টার্মিনাল থেকে দৈনিক গড়ে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০ ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ হয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমানে যান্ত্রিক ত্রুটি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে তা কমে প্রায় ৫০০ ঘনমিটারে নেমে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, টার্মিনাল দুটিতে আলাদাভাবে তৈরি হওয়া সংকটই মূলত এই ঘাটতির কারণ। সাগরে বৈরী আবহাওয়া ও অতিরিক্ত বাতাসের কারণে এলএনজি বহনকারী একটি জাহাজ সিঙ্গাপুর বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। এর প্রভাবে গতকাল সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে এই টার্মিনালে গ্যাসের চাপ ব্যাপকভাবে কমে যায়। ফলে এখান থেকে সরবরাহ দৈনিক ৫০০ ঘনমিটার থেকে কমে মাত্র ২০০ ঘনমিটারে নেমে এসেছে।
গত ২১ জুলাই এই টার্মিনালে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। আংশিক মেরামতের পর ৬ আগস্ট থেকে এটি পুনরায় চালু হয়। টার্মিনালটির স্বাভাবিক সক্ষমতা দৈনিক ৫৫০ থেকে ৬০০ ঘনমিটার হলেও বর্তমানে এখান থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গড়ে মাত্র ৩০০ ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।
পেট্রোবাংলা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গ্যাস সরবরাহের এই আকস্মিক ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়ে তারা জানান:
“আগামী ১৫ আগস্ট অপর একটি এলএনজিবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। নতুন এই জাহাজটি যুক্ত হলে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জাহাজটি পৌঁছানোর আগে মাঝের এই কয়েকদিন সরবরাহ আরও কমে যেতে পারে বলে প্রবল শঙ্কা রয়েছে।”
দুটি টার্মিনাল থেকে একযোগে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে যে বিশাল ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের উৎপাদনশীল খাতগুলোতে। সংকট দীর্ঘায়িত হলে গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে লোডশেডিং বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। এছাড়া গ্যাসের অপর্যাপ্ত চাপে শিল্প-কারখানার চাকা স্থবির হওয়ার পাশাপাশি সিএনজি স্টেশনগুলোতে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

