বিশেষ প্রতিনিধি:
আজ সেই বিভীষিকাময় ৪ আগস্ট। ২০২৪ সালের এই দিনে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় সংঘটিত হয়েছিল দেশের ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস ও বর্বরোচিত ঘটনা। আন্দোলন চলাকালীন হামলা চালিয়ে এনায়েতপুর থানার ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা ও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। হৃদয়বিদারক এই ঘটনার পর আজও আতঙ্ক ও বেদনার স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনরা।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অংশ হিসেবে ডাকা সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সারা দেশের মতো সিরাজগঞ্জেও তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাজার হাজার মানুষের একটি মিছিল এনায়েতপুর থানার দিকে অগ্রসর হয়। একপর্যায়ে থানা চত্বর ঘেরাও করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হলে পরিস্থিতি দ্রুত অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উত্তপ্ত পরিস্থিতির একপর্যায়ে হামলাকারীরা থানার সীমানা প্রাচীর ও ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ সদস্যরা থানার ভেতরের বিভিন্ন কক্ষে আশ্রয় নিলেও তা রক্ষা করতে পারেনি। হামলাকারীরা থানায় ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এরপর ভেতরে আটকে পড়া পুলিশ সদস্যদের টেনে-হিঁচড়ে বের করে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে নৃসংসেভাবে হত্যা করা হয়। পরে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের দেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
এই নারকীয় হামলায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাকসহ মোট ১৫ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। পুরো থানা ভবনটি পুড়ে ছাই হয়ে যায় এবং সেখানে এক ভয়াবহ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। যদিও এখনো তেমন কোনো অগ্রগতি নাই।
আজকের এই দিনে নিহত পুলিশ সদস্যদের স্মরণে তাদের পরিবার ও সহকর্মীরা গভীর শোক ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করছেন। স্বজনদের দাবি, কোনো অজুহাতেই এমন নির্মম হত্যাযজ্ঞকে সমর্থন করা যায় না; দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাই এখন প্রধান দাবি।

