বিশেষ প্রতিবেদন: ছাত্র-জনতার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঠিক দুই বছর পর, ৫ আগস্ট নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) সাউথ এশিয়ায় আয়োজিত এক বিশেষ ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজনীতিতে তার প্রত্যাবর্তনের প্রত্যয় এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দূরদর্শিতার রূপরেখা তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে, যা দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন মাত্রার যোগসূত্র তৈরি করেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, নয়াদিল্লির মথুরা রোডের ঐতিহ্যবাহী স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে ৫ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত এই অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হবে।
শেখ হাসিনা সরাসরি উপস্থিত না থাকলেও অডিও বার্তার মাধ্যমে যুক্ত হবেন এবং বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেবেন।
এফসিসি সাউথ এশিয়ার সভাপতি ডক্টর ওয়ায়েল আউয়াদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রকাশে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বাধা বা আপত্তি নেই। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই ক্লাবটি তাকে এই সুযোগ দিচ্ছে।
ড. আউয়াদ উল্লেখ করেন, বাকস্বাধীনতা ও সর্বজনীন গণতান্ত্রিক মূলবোধের জায়গা থেকেই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনার এই বহুল প্রতীক্ষিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও ইতিবাচক সাড়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, অভিজ্ঞ এই রাষ্ট্রনায়কের কণ্ঠে তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বার্তা ও দেশে ফেরার ঘোষণা দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ ঘটাতে পারে।
উক্ত ভার্চুয়াল প্যানেলে শেখ হাসিনা ছাড়াও বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট ব্যক্তিত্ব ও বিশ্লেষক অংশ নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন:
- সজীব ওয়াজেদ জয়
- মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল (সাবেক শিক্ষামন্ত্রী)
- সাকিব আল হাসান (সাবেক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ও সংসদ সদস্য)
- আমিনুল হক পলাশ (সাবেক কূটনীতিক)
- মাহাম্মদ আলী সিদ্দিক (বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মহাসচিব)
- আবু ওবাইদাহ আরিন ও শাহ মো. বখতিয়ার (বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক)
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে রাজনৈতিক নানা চড়াই-উৎরাই পার করলেও আওয়ামী লীগের সমর্থক ও সাধারণ জনগোষ্ঠীর একটি বিশাল অংশের কাছে শেখ হাসিনার নেতৃত্ব এখনও প্রাসঙ্গিক। আন্তর্জাতিক মহলেও তার বিগত আমলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার অবদান ইতিবাচকভাবে মূল্যায়িত হয়। আগামী ৫ আগস্টের এই অধিবেশন এবং শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের সুর কেবল বাংলাদেশ নয়, পুরো অঞ্চলের রাজনীতির আকাশে এক নতুন আবহ তৈরি করতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
(সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে)

