নিজস্ব প্রতিবেদক | Info Bangla
টানা ১০ মাস ধরে দেশের কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধ থাকায় দেশীয় সোনালী আঁশ খাতে এক নজিরবিহীন বিপর্যয় নেমে এসেছে। রপ্তানি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ায় কৃষক থেকে শুরু করে জুট প্রেসের শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের জীবনযাত্রায় এখন চরম অনিশ্চয়তা। দেশের ঐতিহ্যবাহী এই খাতের সংকট কেবল ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়, বরং জাতীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থানের ওপর এক গভীর ও স্থায়ী ক্ষত তৈরি করছে।
উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের চাকা স্তব্ধ হয়ে যাওয়ায় ইতিমধ্যে দেশের প্রায় ৪০টি জুট প্রেসের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে এক ধাক্কায় বেকার হয়েছেন বিপুল সংখ্যক শ্রমিক। একই সাথে, বন্দরের গুদাম ও আড়তগুলোতে হাজার হাজার টন উন্নত মানের কাঁচা পাট মাসের পর মাস জমে থেকে নষ্ট হচ্ছে। সঠিক পরিচর্যার অভাব ও দীর্ঘদিনের স্থবিরতায় অক্ষত পাট তার গুণগত মান হারিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে।
এই অচলাবস্থার সবচেয়ে বড় খেসারত দিতে হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারে। সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় বিদেশী বায়াররা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে অন্য দেশের দিকে ঝুঁকছেন, যার ফলে বহু বছরের পরিশ্রম ও বিশ্বস্ততায় গড়ে ওঠা বৈদেশিক বাজার হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় পড়েছেন দেশীয় রপ্তানিকারকরা। তার ওপর ব্যবসা সম্পূর্ণ থমকে গেলেও থামেনি ব্যাংক ঋণের সুদের চাকা। আয় বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীদের ঘাড়ে পুঞ্জীভূত ঋণের পাহাড় জমছে, যা অনেককে দেউলিয়া হওয়ার চূড়ান্ত দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে।
সংকট উত্তরণে আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন খাতের অংশীজনরা। অবিলম্বে কাঁচা পাট রপ্তানির বাধা দূর করা না গেলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান এই খাতকে পুনরুদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। কৃষক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের বাঁচাতে এবং আন্তর্জাতিক বাজার পুনরায় দখল করতে এখন দ্রুত ও কার্যকর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া সময়ের দাবি।

