মাদারীপুর প্রতিনিধি:
মাদারীপুর জেলা শহরের আমিরাবাদ এলাকায় একটি বাসা থেকে এক শিশুসহ একই সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১৭ মে) মধ্যরাতে পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতরা হলেন—মাদারীপুর সদর উপজেলার কলাগাছিয়া এলাকার বাসিন্দা চিন্ময় দাস, তাঁর স্ত্রী ইশা দাস এবং তাঁদের আট মাস বয়সী এক কন্যাসন্তান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শহরের আমিরাবাদ এলাকার বাসিন্দা মৃত বীরেন্দ্রনাথ দত্তের স্ত্রী সান্তনা রানী চন্দের মালিকানাধীন একটি বাড়িতে গত তিন বছর ধরে ভাড়া থাকছেন মিষ্টি বাড়ৈ নামের এক নারী। মিষ্টি বাড়ৈ গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার সাতপাড় এলাকার ইতালি প্রবাসী যতীন বাড়ৈ-এর স্ত্রী। রোববার বিকেলে চিন্ময় দাস তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে মিষ্টি বাড়ৈ-এর বাসায় আসেন এবং নিজেকে মিষ্টির চাচাতো ভাই পরিচয় দেন।
পরবর্তীতে মধ্যরাতে ওই ঘর থেকে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। মাদারীপুর সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের দরজা ভেঙে বিছানা থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার সময় মিষ্টি বাড়ৈ পাশের কক্ষেই অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, “রোববার মধ্যরাতে ঘরের দরজা ভেঙে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এটি হত্যাকাণ্ড নাকি আত্মহত্যা, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই বাসার ভাড়াটিয়া মিষ্টি বাড়ৈকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে।”
আজ সোমবার (১৮ মে) সকালে নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই পরিবারের তিন সংখ্যালঘু সদস্যের এমন রহস্যজনক মৃত্যুতে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসন বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে।
