নিজস্ব প্রতিবেদক | ইনফো বাংলা
র্যাপ সংগীতের আড়ালে রাজধানীতে এক ভয়ংকর অপরাধ জগৎ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে তথাকথিত র্যাপার সেজানের বিরুদ্ধে। গানের নামে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ শব্দের ব্যবহার এবং মাদক ও গালাগালিকে উপজীব্য করে গড়ে তোলা তার এই জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে সেজান আসলে নিয়ন্ত্রণ করছে এক বিশাল মাদক সিন্ডিকেট। ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় মাদক সরবরাহ এবং বিপণনের জন্য সেজান নিজস্ব একটি ‘কিশোর গ্যাং’ বাহিনী গড়ে তুলেছে বলে পুলিশের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।
সম্প্রতি মাদকের এক বড় ডিল নিয়ে দরকষাকষির জেরে প্রতিপক্ষের একজনকে ঘটনাস্থলেই কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সেজানের বিরুদ্ধে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, মার্ডার স্পটে সেজান নিজেই উপস্থিত থেকে এই হত্যাকাণ্ড চালায়। এই ঘটনার পর থেকেই সে পলাতক রয়েছে। তবে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এসে নানা ধরনের ‘ফেমসিকিং’ বা দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালাচ্ছে।
সেজানের অপরাধের খতিয়ান বেশ দীর্ঘ। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাসহ বিভিন্ন থানায় তার নামে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেজান তার পেশাগত ‘ফেস ভ্যালু’ ব্যবহার করে দীর্ঘ দিন ধরে আন্ডারওয়ার্ল্ডের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। নিজেকে প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ দাবি করে এবং সম্প্রতি জুলাই আন্দোলনের ‘যোদ্ধা’ পরিচয়ে বিভিন্ন মহলে চাপ সৃষ্টি ও হুমকি দিয়ে নিজের অপরাধের সাম্রাজ্য রক্ষা করার চেষ্টা করছে সে।
বিভিন্ন গোপন সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের সাবেক ছাত্রদল নেতা জাকির খানের ছত্রছায়ায় সেজান তার এই মাদক ও কিশোর গ্যাং নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে আসছিল। একজন উঠতি গায়কের আড়ালে এমন নৃশংস খুনি ও মাদক ব্যবসায়ীর অবয়ব প্রকাশ্যে আসায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ঘাতক সেজানকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং তার মাদক নেটওয়ার্কের শেকড় উপড়ে ফেলতে কাজ করছে পুলিশ।
