নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
দেশের স্বাস্থ্যখাতে নজিরবিহীন অরাজকতা এবং হামের প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের অডিটরিয়ামের পাশে জরুরি ভিত্তিতে স্থাপন করা হয়েছে একটি “ফিল্ড হাসপাতাল”। এককালে মহামারি কলেরার সময় এমন অস্থায়ী হাসপাতালের দৃশ্য দেখা গেলেও, আধুনিক সময়ে এই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি জনমনে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
হামের তাণ্ডব ও ভ্যাক্সিন নিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগ
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, হামের প্রকোপে ইতোমধ্যে অন্তত ৩০০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক প্রাণের বিনাশের জন্য সরাসরি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে দায়ী করছেন সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট মহল। অভিযোগ উঠেছে, ভ্যাক্সিন নিয়ে নোংরা বাণিজ্যের কারণে সময়মতো শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এই সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে ক্ষুব্ধ জনতা ড. ইউনুসকে “খুনি” আখ্যা দিয়ে তার ও তার সহযোগীদের কঠোর বিচার দাবি করছেন।
ঢাবিতে ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপনে ডাকসুর বাধা
হামের ভয়াবহতা সামাল দিতে সরকার প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সেন্ট্রাল খেলার মাঠে ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনা করেছিল। তবে ঐতিহাসিকভাবে জনসেবায় অগ্রণী এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ডাকসু (DUCSU) এবং সংশ্লিষ্ট মহলগুলো এই উদ্যোগে বাধা প্রদান করেছে।
সচেতন নাগরিক সমাজ আক্ষেপ করে বলছেন:
- একসময় কলেরার প্রকোপ কমাতে ঢাবি প্রাঙ্গণে স্যালাইন তৈরির ক্যাম্প হতো।
- সাম্প্রতিক করোনা মহামারির সময়ও এখানে স্যানিটাইজার তৈরির ক্যাম্প স্থাপন করে ছাত্র-শিক্ষকরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
- অথচ বর্তমানে ডাকসুর “জনবিরোধী” অবস্থানের কারণে বিপন্ন শিশুদের চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
বিচারের দাবি ও বর্তমান পরিস্থিতি
ঢামেকে স্থাপিত এই অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতালটি দেশের ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপস্থিত অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মুখে এখন একটাই দাবি—হামের প্রকোপে শিশু হত্যার দায় নিয়ে ড. ইউনুসকে পদত্যাগ করতে হবে এবং ভ্যাক্সিন বাণিজ্যের সাথে জড়িত সিন্ডিকেটকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠান কেন জনসেবার বদলে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো স্বার্থে ফিল্ড হাসপাতাল করতে দিল না, তা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা চলছে।
