নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ১১টি ছাত্র হলে কমিটি ঘোষণা করেছে নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। সোমবার (৪ মে) রাতে সংগঠনটির রাবি শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়।
বর্তমানে পলাতক অবস্থায় থাকা শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবু নিজের ফেসবুক আইডি থেকে এই হল কমিটিগুলো প্রকাশ করেন। ঘোষিত তালিকায় প্রতিটি হলের জন্য শুধুমাত্র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, আগামী এক বছরের জন্য এই কমিটি কার্যকর থাকবে।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, রাবিতে ছাত্রদের ১১টি এবং ছাত্রীদের ৬টি হল থাকলেও কেবল ছাত্রদের হলগুলোতেই এই কমিটি দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল’ নাম পরিবর্তন করে ‘বিজয়-২৪’ করা হলেও, ছাত্রলীগের ঘোষণায় পুরোনো নামটিই ব্যবহার করা হয়েছে।
ঘোষিত কমিটির তালিকা:
- বঙ্গবন্ধু হল: তানভির আহমেদ (সভাপতি) ও তামিম হাসান (সাধারণ সম্পাদক)।
- শের-ই বাংলা ফজলুল হক হল: শুভ্র দেব সাহা ও মোবাশ্বির রায়হান রাফি।
- শাহমখদুম হল: এলাহি শেখ ও এহসান আহমেদ আকাশ।
- নবাব আব্দুল লতিফ হল: মাসুদুর রহমান ও আব্দুল জলিল চৌধুরী।
- সৈয়দ আমির আলী হল: গোলাম কিবরিয়া ও মশিউর রহমান মিহাদ।
- শহীদ হবিবুর রহমান হল: রাইসুল ইসলাম আকাশ ও সোহান হাসান।
- মতিহার হল: ডালিম মির্জা ও আব্দুল্লাহ শোয়াইব।
- মাদার বখ্স হল: শামীম সিকদার ও ফজলে রাব্বী।
- জিয়া হল: মাজেদুল ইসলাম মৃদুল ও তানজিল হাসান সুমন।
- সোহরাওয়ার্দী হল: কামরুল হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমান তুষার।
- শহীদ শামসুজ্জোহা হল: রাহাত হাসান খান রাহাত ও আব্দুল্লাহ আল আজমী।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঘোষিত কমিটির পদধারী নেতাদের কাউকেই বর্তমানে ক্যাম্পাসে দেখা যাচ্ছে না। তারা সবাই নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং অতীতে বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা বহিষ্কারের সম্মুখীন হয়েছিলেন। কারো কারো বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও কারাভোগের ইতিহাসও রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র আন্দোলনের মুখে ছাত্রলীগ ক্যাম্পাস ত্যাগের পর থেকেই সভাপতি বাবু ও সাধারণ সম্পাদক গালিব পলাতক রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তারা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ-হিল-গালিব দাবি করেন, সংগঠনকে সক্রিয় করতেই এই কমিটি দেওয়া হয়েছে, যদিও তিনি স্বীকার করেন যে নেতারা বর্তমানে ক্যাম্পাসে নেই।
এদিকে নিষিদ্ধ সংগঠনের এই কার্যক্রমের বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের প্রকাশ্যে কার্যক্রম পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। অনলাইনে তারা কী ঘোষণা করল, তাতে বাস্তবে ক্যাম্পাসে কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে অনলাইনে কোনো রাষ্ট্রবিরোধী বা বিতর্কিত কার্যক্রম চললে তা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানানো হবে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
