নিজস্ব প্রতিবেদক | খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)

​খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (CSE) বিভাগের ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী হাসিবের (রোল: ২০০৭০২৫) বিরুদ্ধে শিশু যৌন নিপীড়ন এবং পর্নোগ্রাফি সংরক্ষণের ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। ল্যাবের একটি কম্পিউটারে ভুলবশত লগ-ইন থাকা হাসিবের গুগল ড্রাইভ থেকে ভুক্তভোগীদের নাম অনুসারে সাজানো আপত্তিকর ছবি ও ভিডিওর ফোল্ডার উদ্ধার করার দাবি করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

​গত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে কাজ করার সময় ২২ ব্যাচের এক শিক্ষার্থীর নজরে আসে একটি পিসিতে হাসিবের গুগল ড্রাইভ লগ-ইন করা রয়েছে। ড্রাইভটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, সেখানে অসংখ্য ভিক্টিমের নামে আলাদা আলাদা ফোল্ডার করা রয়েছে, যেখানে তাদের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সংরক্ষিত। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর গত রাতে আইইএম (IEM) এবং সিএসই (CSE) বিভাগের ২২ ব্যাচের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ফজলুল হক হলের ২** নম্বর রুমে হাসিবকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে যান। পরবর্তীতে তাকে অমর একুশে হলের সামনে নিয়ে আসা হলে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সামনে তিনি তার কর্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন। তবে ঘটনার গুরুত্ব লাঘব করতে তিনি ‘ধর্মীয় অনুভূতির’ দোহাই দিয়ে ক্ষমা চাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হাসিব নিজের অপরাধ অস্বীকার না করে উল্টো দাবি করেন যে তিনি এসব করে অনুতপ্ত হতেন এবং ২০ রাকাত নফল নামাজ পড়তেন।

​শিক্ষার্থীরা হাসিবকে ছাত্র কল্যাণ দপ্তরের (DSW) পরিচালকের কাছে নিয়ে যেতে চাইলে তিনি অসহযোগিতা করেন এবং এক পর্যায়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সাথে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে লিপ্ত হন। পরবর্তীতে তাকে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়। এদিকে এই জঘন্য অপরাধের বিচার দাবির পরিবর্তে বিষয়টিকে ‘সিনিয়র-জুনিয়র কোন্দল’ হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করছেন হাসিবের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু (টেক্সটাইল ২০ ব্যাচ, এসএসএইচ)। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখান করে বলছেন, একজন শিশু নিপীড়ক বা যৌন অপরাধীর পরিচয় কেবল ‘অপরাধী’, সেখানে সিনিয়রিটি কোনো ঢাল হতে পারে না।

​বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ‘সিরিয়াল চাইল্ড মোলেস্টার’ ও যৌন নিপীড়কের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্যাম্পাস থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্রতা রক্ষায় এমন বিকৃত মানসিকতার কাউকে প্রশ্রয় না দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

Leave A Reply

Exit mobile version