নিজস্ব প্রতিবেদক | রূপপুর
দেশের জ্বালানি খাতে সূচিত হতে যাচ্ছে এক নতুন অধ্যায়। রূপপুরে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম ইউনিটের জ্বালানি লোডিং শুরু হতে যাচ্ছে, যা জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী আগস্টের শুরুতেই রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। এ লক্ষ্যে রূপপুর গ্রিড সম্প্রসারণ প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য কিছু পরিবর্তন ও সংস্কার আনা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বিএইআরএ) ইতিমধেই ইউনিট-১-এর কমিশনিং লাইসেন্স প্রদান করেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও কঠোর নিরাপত্তা যাচাই শেষে এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ব্যয় ও সময় সাশ্রয়
গ্রিড সম্প্রসারণ প্রকল্পের মেয়াদ ছয় মাস কমিয়ে চলতি বছরের জুন মাসে শেষ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একইসাথে প্রকল্প ব্যয় প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা কমানো হয়েছে। স্কোপ পরিবর্তন, নকশা সংশোধন ও বিনিময় হার সমন্বয়ের ফলে সংশোধিত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৬৫১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, যা মূল বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ২১ শতাংশ কম।
উৎপাদন পরিকল্পনা
প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রের মোট ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার প্রায় ৩০ শতাংশ (৩০০ থেকে ৩৫০ মেগাওয়াট) বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়িয়ে পূর্ণ বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে প্রায় ১০ মাস সময় লাগবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমেই বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাচ্ছে। জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের শুরুতে আমরা প্রথম ইউনিট থেকে গ্রিডে বিদ্যুৎ পাব। আশা করছি, চলতি বছরের শেষ নাগাদ বা আগামী বছরের শুরুতে প্রথম ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চলবে।”
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, “এই প্রকল্পটি চালু হলে জাতীয় গ্রিডে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ যুক্ত হবে, যা দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাবে।” অন্যদিকে, গ্রিড সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরিচালক মো. মাসুদুল ইসলাম মনে করেন, এই সফল সমাপ্তি দেশের বিদ্যুৎ কার্যক্রমকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
দেশের প্রথম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হলে দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বাংলাদেশ আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।
