নিজস্ব প্রতিবেদক | Info Bangla
কুড়িগ্রামে সার বিতরণকে কেন্দ্র করে কৃষকদের ভোগান্তি ও বিশৃঙ্খলা চরম আকার ধারণ করেছে। একের পর এক অপ্রীতিকর ঘটনায় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে সরকারের ভাবমূর্তিতেও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ওয়ার্ডভিত্তিক তালিকাভুক্ত খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে সার বিতরণের সিদ্ধান্ত নিলেও তা বাস্তবায়নে কৃষি বিভাগের ‘একগুঁয়েমি’ ও অবহেলাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সার বিতরণের প্রচলিত নিয়মে এক ডিলার পয়েন্টে শত শত কৃষককে জড়ো করার ফলে তীব্র নৈরাজ্য তৈরি হচ্ছে। প্রতি সপ্তাহেই জেলার কোনো না কোনো অঞ্চলে ঘটছে অপ্রীতিকর ঘটনা। সর্বশেষ গত ২২ সেপ্টেম্বর উলিপুরের হাতিয়া ইউনিয়নের নতুন অনন্তপুরে ডিলার পয়েন্টে কৃষকদের উপচে পড়া ভিড় দেখে ডিলার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা (বিএস) সটকে পড়েন। এতে ক্ষুব্ধ কৃষকরা আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ ও প্রশাসন গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর সদরের ঘোগাদহে সারের দাবিতে অপেক্ষমান কৃষকদের হামলায় এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আহত হন। একই সপ্তাহে নাগেশ্বরীর বল্লভেরখাস, চর রাজিবপুর, রৌমারী ও ভূরুঙ্গামারীতে ডিলারের গুদাম অবরুদ্ধ, ভাঙচুর ও বিক্ষোভের মতো ঘটনা ঘটেছে।
সার বিতরণের এই সংকট নিরসনে সম্প্রতি রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহীদুল ইসলাম ও জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় বৈঠকে ডিলার গুদামের পাশাপাশি ওয়ার্ডভিত্তিক নিবন্ধিত খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে সার বিতরণের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, নীতিগত এই সিদ্ধান্ত কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে, মাঠপর্যায়ে এর কোনো প্রতিফলন নেই।
কৃষকরা জানান, ডিলার পয়েন্টে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চাহিদামতো সার পাওয়া যাচ্ছে না। উলিপুরের দুর্গাপুর ইউনিয়নের পাঁচপীর বাজারে ‘মেসার্স মো. আকবর আলী’ ডিলার পয়েন্টে পাঁচ জনের জন্য ১ বস্তা সার বরাদ্দের নিয়ম করায় তীব্র অসন্তোষ দেখা যায়। যমুনা এলাকার কৃষক রুহুল আমিন আক্ষেপ করে বলেন, একাধিক দিন ঘুরেও সার পাননি; উপরন্তু পাঁচ জনের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করায় চরম বিপাকে পড়েছেন। অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য সোলজার ও স্থানীয় বিসিআইসি সার ডিলার রমজান আলী উভয়েই জানান, আগের মতো খুচরা দোকানে সার বিতরণের ব্যবস্থা থাকলে এই ভোগান্তি ও ভিড় হতো না।
এ বিষয়ে প্রশাসনিক সূত্রে কৃষি বিভাগের অনাগ্রহকে প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উলিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার শহীদুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, ওয়ার্ডভিত্তিক বিতরণের সিদ্ধান্ত হলেও তা এখনো চালু করা যায়নি। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া সিদ্ধান্ত না মানায় মাঠপর্যায়ে এই নৈরাজ্য চলছে।
সার্বিক বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কৃষি বিভাগকে বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও তারা গড়িমসি করছে। মাঠপর্যায়ে কাজের গাফিলতির কারণে ইতোমধ্যেই উপ-পরিচালককে (ডিডি) বদলি করা হয়েছে। দ্রুত সমন্বিত প্রচেষ্টায় পর্যায়ক্রমে ওয়ার্ডভিত্তিক সার বিতরণ কার্যক্রম শুরু করার আশ্বাস দেন তিনি।

