নিজস্ব প্রতিবেদক | Info Bangla
দারিদ্র্যের নির্মমতার কাছে কি শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয় মানুষের আত্মসম্মানকেও? বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের রেহানা খাতুনের জীবনের করুণ বাস্তবতা যেন সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। ঘরের মাত্র ৫০০ টাকা ভাড়া মেটাতে না পেরে নিজের মাথার চুল বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন দুই সন্তানের এই নিভৃতচারী মা। মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে এখন খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশের খোলা আকাশই তার ও তার সন্তানদের একমাত্র ঠিকানা।
সন্তোষপুর গ্রামের প্রবেশমুখে সরেজমিনে গিয়ে দেখা মেলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। রেললাইনের ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে আছে বাঁশের কয়েকটি কঙ্কালসার খুঁটি। টিন আর বেড়া না থাকায় তীব্র রোদ ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে এই অসমাপ্ত কাঠামোর নিচেই এখন রেহানার প্রাত্যহিক সংগ্রাম। আগে একটি ভাড়া করা ঝুপড়ি ঘরে থাকতেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কষাঘাতে দীর্ঘদিনের বকেয়া ভাড়া শোধ করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত নিজের মাথার চুল বিক্রি করে সেই ঋণ মেটাতে হয় তাকে। জীবনের এই চরম করুণ পরিণতি স্থানীয়দের মাঝে সৃষ্টি করেছে গভীর মর্মবেদনা।
স্থানীয় বাসিন্দা ফেরদৌসী বেগম আক্ষেপ করে জানান, আশ্রয়হীন রেহানাকে একদিন চুল ছাড়া দেখে কারণ জানতে চাইলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি এবং চুল বিক্রির বিষয়টি প্রকাশ করেন। বর্তমানে প্রতিবেশীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রেলব্রিজের পাশে বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি ঘরের প্রাথমিক কাঠামো দাঁড় করানো সম্ভব হলেও অর্থের অভাবে তা পূর্ণতা পায়নি। মহিদুল ইসলাম ও রহিম শেখসহ এলাকার বাসিন্দাদের মতে, সামান্য টিন আর বেড়ার ব্যবস্থা হলেই এই অসহায় পরিবারটির অন্তত একটি নিরাপদ মাথা গোঁজার ঠাঁই হতো।
সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে সব কষ্ট নিরবে সহ্য করে যাওয়া রেহানা খাতুন সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন অন্তত একটি সুরক্ষিত আশ্রয়ের জন্য। খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা বাঁশের ওই অসমাপ্ত কাঠামোটি যেন আজ কেবল একটি পরিবারের মাথার ছাদ পাওয়ার আকুতি নয়, বরং মানবতা ও সরকারি আবাসন ব্যবস্থার প্রতি এক জরুরি বার্তা। এলাকাবাসীর জোর দাবি, মানবিক দিক বিবেচনা করে সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় দ্রুত রেহানার পরিবারকে একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক, পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানরা যেন এই অসহায় মায়ের পাশে এসে দাঁড়ান।

