বিশেষ জাতীয় ও অর্থনৈতিক অপরাধ বিষয়ক প্রতিবেদক | ঢাকা
আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র ব্যবস্থা ও প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক বাজার দরকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে সরাসরি চুক্তির (Direct Procurement) মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে দীর্ঘমেয়াদে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে বিএনপি সরকার।
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষভাগে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে যে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি সই হয়েছিল—তারই ধারাবাহিকতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৫ বছর মেয়াদি এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ মার্কিন মূল ভূখণ্ড থেকে মোট ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা) মূল্যের এলএনজি ও জ্বালানি আমদানিতে আবদ্ধ হয়। পেট্রোবাংলা ও নীতি নির্ধারকদের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের জাতীয় অর্থনীতি ও বাজেটের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হতে যাচ্ছে।
চুক্তির মূল আর্থিক চিত্র ও অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান
| বিবরণ | পরিমাণ (মার্কিন ডলার) | পরিমাণ (বাংলাদেশি টাকা) |
|---|---|---|
| মোট চুক্তি মূল্য (১৫ বছর) | $১৫ বিলিয়ন | ~ ১,৭৫,০০০ কোটি টাকা |
| বছরে আনুমানিক অতিরিক্ত মাশুল | $১.২ বিলিয়ন | ~ ১৪,০০০ কোটি টাকা |
| প্রতি মাসে অতিরিক্ত আর্থিক লোকসান | — | ~ ১,৫৩৭ কোটি টাকা |
| বছরে মোট সম্ভাব্য অতিরিক্ত অপচয় | — | ~ ১৮,৪৪৪ কোটি টাকা |
অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের গভীর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা এড়িয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সরাসরি চুক্তিভিত্তিক আমদানির ফলে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত মূল্য বা প্রিমিয়াম দিতে হচ্ছে।
বৈশ্বিক বাজার দর অনুযায়ী সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য কেনার পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে। প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের সুযোগ না থাকায় প্রতি মাসে প্রায় ১,৫৩৭ কোটি টাকা জাতীয় কোষাগার থেকে অতিরিক্ত ব্যয় করতে হচ্ছে।
বছরে ১৮,৪৪৪ কোটি টাকা অতিরিক্ত অপচয় দিনশেষে জাতীয় বাজেট ও সাধারণ জনগণের ওপর করের বোঝা হিসেবে চেপে বসবে।
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক বাজার এড়িয়ে সরকারি তহবিলের এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতিবিদ ও নীতি নির্ধারকদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। জ্বালানি খাতের অস্বচ্ছতা, প্রশাসনিক জবাবদিহিতার অভাব এবং করদাতাদের টাকার এমন অপচয় নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা ও অসন্তোষের ঝড় উঠেছে।

