ঢাকা: “খুব দ্রুতই আমি ফিরে আসব। আল্লাহ যখন বাঁচিয়ে রেখেছেন, নিশ্চয়ই এই সমস্ত ময়লা-আবর্জনা সাফ করার জন্যই আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।”— এক ভিডিও বার্তায় বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি এভাবেই তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনতে এবং দেশের চলমান সংকট দূর করতে আওয়ামী লীগকে যে কেউ দমাতে পারবে না, সেই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। একই সাথে অবিলম্বে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আটক সকল নেতা-কর্মীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। দাবি আদায় না হলে রাজপথের তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
“কীভাবে আন্দোলন করতে হয়, আমাদের জানা আছে”আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন:
“আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কোনো অধিকার এই সরকারের নেই। অবিলম্বে দলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে এবং সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।”
তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “কীভাবে আন্দোলন করতে হয় আর কীভাবে দাবি আদায় করতে হয়, তা আমাদের ভালো করেই জানা আছে।” বর্তমান শাসনামলে পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর অন্যায় জুলুম ও হয়রানি করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি তা অনতিবিলম্বে বন্ধের দাবি জানান।
শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ যখন অনুন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মহাসড়কে উঠেছিল, আজ তা স্থবির। দেশের বর্তমান বিপর্যস্ত পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সাবেক এই সফল প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ দেশে বিদ্যুৎ নেই, খাবার নেই, পানি নেই, গ্যাস নেই, কৃষকের সার নেই, শ্রমিকের কাজ নেই।”
“আমার হাত ধরে যে উন্নয়নের জোয়ার এসেছিল, তার গতি আজ পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। জনগণের এই চরম ভোগান্তি আমরা কোনোভাবেই বরদাশত করব না।”
শিক্ষা খাতে নিজের অবদানের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, “সব স্কুল-কলেজ আমার হাতে গড়া, শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন আমার হাতে করা। সেখানে আমাদের ছেলেরা পড়তে পারবে না কেন?”
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সমর্থিত শিক্ষার্থীদের হয়রানি এবং জোরপূর্বক সার্টিফিকেট কেড়ে নেওয়ার ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, যাদের সার্টিফিকেট কেড়ে নেওয়া হয়েছে, অনতিবিলম্বে তাদের তা ফেরত দিতে হবে।
২০০১ পরবর্তী অন্ধকার সময়ের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, “২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর অমানুষিক অত্যাচার হয়েছিল। কিন্তু ২০০৯ সালে জনগণের রায়ে ক্ষমতায় এসে আমরা কোনো প্রতিশোধের রাজনীতি করিনি; শুধু দেশের উন্নয়ন করেছি।”
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন: “এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। এবার জনগণের হাত দিয়ে দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন এবং দেশের ক্ষতিসাধনকারী অপকর্মকারীদের সাজার ব্যবস্থা—এই দুই কাজ একসাথেই সমান্তরালে চলবে।”
‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়: “আমি আসবই”
বক্তব্যের শেষাংশে শেখ হাসিনা সারা দেশের স্তিমিত নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামার উদাত্ত আহ্বান জানান। ২০৪১ সালের মধ্যে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত ও ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার যে স্বপ্ন তিনি দেখিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়নে তিনি এখনো অবিচল।
জনগণকে আশ্বস্ত করে বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য এই নেত্রী ঘোষণা করেন: **”আমি আছি, আমি থাকব এবং আমি আসব। আমার হাত দিয়েই এই বাংলাদেশ আবার বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে উঠে দাঁড়াবে।”

