বিশেষ প্রতিবেদক | ঢাকা
দেশের উন্নয়ন বরাদ্দের সিংহভাগই এখন যাচ্ছে একটি মাত্র উপজেলায়! খোদ প্রধানমন্ত্রীর নিজের উপজেলা গাবতলীকে পেছনে ফেলে, বগুড়ার বাকি ১০টি উপজেলাকে এক প্রকার বঞ্চিত করে একক আধিপত্য বিস্তার করেছে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নির্বাচনী এলাকা শিবগঞ্জ।
বরাদ্দের এই অবিশ্বাস্য পাহাড় দেখে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে মাত্র ৪ মাসেই এক অন্যরকম নজির তৈরি করলেন এই প্রতিমন্ত্রী।
সাধারণত ভিভিআইপি বা প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়নের বিশেষ নজর থাকে। কিন্তু বগুড়ায় দেখা গেছে উল্টো চিত্র। প্রধানমন্ত্রীর নিজের উপজেলা গাবতলীর চেয়েও প্রতিমন্ত্রীর শিবগঞ্জ উপজেলা বরাদ্দ পেয়েছে সাড়ে তিন গুণেরও বেশি।
বগুড়া জেলার মোট বরাদ্দের হিসাব মেলালে দেখা যায় এক চরম বৈষম্য। জেলার বাকি ১০টি উপজেলার ভাগ্যে মোট বরাদ্দের ৩০ শতাংশও জোটেনি। অর্থাৎ, শিবগঞ্জ উপজেলা একাই যা পেয়েছে, তা বাকি ১০টি উপজেলার সম্মিলিত বরাদ্দের প্রায় দ্বিগুণ! আরও সহজ করে বললে, দেশের গড়পড়তা প্রায় ২০টি উপজেলার সমপরিমাণ উন্নয়ন প্রকল্প একাই সাবাড় করেছে প্রতিমন্ত্রীর এই এলাকা।
অতীতে গোপালগঞ্জেও এমন দৃশ্য দেখা যায়নি। কিন্তু ক্ষমতার মাত্র ৪ মাসের মাথায় এমন নজিরবিহীন ঘটনা এর আগে কখনো ঘটেনি।
উপজেলার পাশাপাশি জেলাভিত্তিক বরাদ্দেও অন্য সব জেলাকে টেক্কা দিয়েছে বগুড়া। জেলা হিসেবে সারা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পেয়েছে বগুড়া। দ্বিতীয় স্থানে থাকা গাজীপুর জেলার চেয়েও বগুড়ার বরাদ্দ প্রায় ৯০ শতাংশ বেশি। দেশের গড় হিসেবে ছয়টি জেলার সমপরিমাণ প্রকল্প একাই বাগিয়ে নিয়েছে বগুড়া জেলা।
বগুড়া জেলা বিপুল পরিমাণ বরাদ্দ পেলেও জেলার ভেতরের চিত্র আরও চমকপ্রদ। জেলার মোট বরাদ্দের অর্ধেকেরও বেশি—নগদ ৭৪ কোটি টাকার প্রকল্প গেছে কেবল একটি মাত্র উপজেলায়। আর সেটি হলো প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নির্বাচনী এলাকা শিবগঞ্জ।
উন্নয়ন প্রকল্পের এই চরম আঞ্চলিক বৈষম্য নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে নানা গুঞ্জন ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। মাত্র ৪ মাসের মাথায় একটি নির্দিষ্ট উপজেলায় বরাদ্দের এই মহোৎসবকে সুনজরে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা।

