নিজস্ব প্রতিবেদক | Info Bangla
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদকে শেষ বিদায় জানাতে ভোলায় সর্বস্তরের মানুষের ঢল নেমেছিল। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো মানুষ অংশ নেন, যার ফলে পুরো এলাকায় এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
জানাজার নামাজের পূর্বে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয় রাজনীতিতে তার অসামান্য অবদানকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়।
এর আগে, আজ দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে তোফায়েল আহমেদের মরদেহ ভোলায় আনা হয়। ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হেলিপ্যাডে হেলিকপ্টারটি অবতরণ করার সাথে সাথেই সেখানে দলীয় নেতাকর্মী, আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী ভিড় জমান। পরে একটি বিশেষ ফ্রিজিং ভ্যানে করে তার মরদেহ জানাজার জন্য ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়।
জানাজায় অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা তোফায়েল আহমেদের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, মহান মুক্তিযুদ্ধে তার ঐতিহাসিক নেতৃত্ব এবং বিশেষ করে ভোলার উন্নয়নে তার অবিস্মরণীয় অবদানের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি জাতীয় রাজনীতির প্রথম সারিতে থাকার পাশাপাশি ভোলার মানুষের সুখ-দুঃখে সবসময় পাশে ছিলেন, যা তাকে এই অঞ্চলের মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ও প্রভাবশালী এক নেতায় পরিণত করেছিল। তার এই চিরবিদায় পুরো জেলায় গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।
জানাজা শেষে তোফায়েল আহমেদের মরদেহ তার নিজ গ্রামের বাড়ি ভোলার দক্ষিণ দীঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সেখানকার পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হবে। জীবদ্দশায় তিনি নিজেই তার শেষ ইচ্ছা হিসেবে বাবা-মায়ের পাশে সমাহিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিলেন।
তার প্রয়াণে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক অঙ্গন ও মুক্তিযুদ্ধের সহযোদ্ধাদের মধ্যে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, ভোলার জানাজায় মানুষের এই অভূতপূর্ব উপস্থিতি তারই প্রতিফলন এবং তার প্রতি জনগণের গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার অনন্য বহিঃপ্রকাশ।

