ডেস্ক রিপোর্ট | ইনফোবাংলা
সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে নারী ও শিশুসহ পাঁচজনকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় সম্রাট নামে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ভবঘুরে হলেও তিনি একজন ‘সিরিয়াল কিলার’ এবং নিয়মিত মানুষ হত্যা করাই ছিল তার পেশা।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে সাভার মডেল থানার সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ছয় মাসে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে পাঁচজনকে হত্যা করেছেন সম্রাট। আটক ব্যক্তি ভবঘুরে প্রকৃতির হলেও দীর্ঘদিন ধরে ওই ভবনেই রাত কাটাতেন। দিনের বেলা তাকে সাভার মডেল থানার সামনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাঁটাহাঁটি করতে দেখা যেত।
সিরিয়াল কিলারকে আটক করায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী জানান, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সম্রাটকে শনাক্ত ও আটক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “সম্রাট কয়েক বছর ধরেই থানার আশপাশ এলাকায় ঘোরাফেরা করছিল। সে ভবঘুরে হলেও একজন সিরিয়াল কিলার। মানুষ হত্যা করাই ছিল তার পেশা।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার দুপুরে সাভার থানার অদূরে অবস্থিত পরিত্যক্ত সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের দোতলার একটি কক্ষে নারীসহ দুইজনের পোড়া মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ও সিআইডির ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
উল্লেখ্য, সাভার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সামনে অবস্থিত পৌর কমিউনিটি সেন্টারটি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় অগ্নিসংযোগের পর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ছয় মাসে এই দুইতলা ভবন থেকে মোট পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো কোনো মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে, গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর ভবনটির দ্বিতীয় তলার টয়লেট থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
১১ অক্টোবর রাতে উদ্ধার করা হয় অজ্ঞাত (৩০) বছর বয়সী এক নারীর অর্ধনগ্ন গলিত মরদেহ।
এছাড়া ২৯ আগস্ট রাতে একই স্থান থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক অজ্ঞাত যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সম্প্রতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভবনটির চারপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। সেই সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করেই দ্রুততম সময়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন সম্রাটকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

