মার্চেই দেশে ঢুকল আরও আড়াই হাজার রোহিঙ্গা

 

সিমান্ত প্রতিনিধি :

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অব্যাহত সংঘাত আর সহিংসতার জেরে বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ যেন থামছেই না।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর (UNHCR)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ মাসেই নতুন করে ২ হাজার ৫৩৩ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে নিবন্ধিত হয়েছেন।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) প্রকাশিত মাসিক প্রতিবেদনে এই আশঙ্কাজনক তথ্য তুলে ধরেছে সংস্থাটি।

রাখাইনে সংঘাতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে বাংলাদেশে আশ্রিতের সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। প্রতিবেদনে উঠে আসা কিছু মূল তথ্য:

 মার্চের অনুপ্রবেশ: ২,৫৩৩ জন।

 মোট নতুন আগমন: ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯৮৯ জন নতুন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন।

 ক্যাম্পগুলোতে মোট চিহ্নিত রোহিঙ্গার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৮৯ হাজার ২১৩ জনে।

ইউএনএইচসিআর জানায়, ২০২৪ সাল থেকে রাখাইন রাজ্যে লক্ষ্যযুক্ত সহিংসতা ও চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। জীবন বাঁচাতে মরিয়া এই মানুষগুলো সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে নিরাপত্তা খুঁজছে। ২০১৭ সালের বড় ঢেউয়ের পর এটিই সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশের ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 বর্তমানে ১০ লাখ ৪২ হাজার ২২৪ জন নিবন্ধিত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছেন, যারা ১৯৯০ এবং ২০১৭ সালের পর বিভিন্ন সময়ে পালিয়ে এসেছেন। নতুন করে যোগ হওয়া এই পৌনে দুই লাখ মানুষ বাংলাদেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

 জাতীয় নিরাপত্তার ওপর চাপ ও গভীর উদ্বেগ

নিয়মিত বিরতিতে এই বিপুল সংখ্যক মানুষের অনুপ্রবেশ দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে।

 সীমিত ভূখণ্ড ও সম্পদের এই দেশে ১১ লক্ষাধিক মানুষের বাড়তি চাপ সামলানো দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। ক্যাম্পগুলোতে নতুন আগতদের বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ চললেও, বিশাল এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে অপরাধী বা উগ্রবাদী গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশের ঝুঁকি প্রশাসনকে ভাবিয়ে তুলছে।

কক্সবাজার ও সংলগ্ন এলাকার বনভূমি ধ্বংস এবং স্থানীয়দের সাথে সম্ভাব্য সামাজিক দ্বন্দ্ব এক দীর্ঘমেয়াদী সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রাখাইন রাজ্যে সংঘাত না থামা পর্যন্ত এই অনুপ্রবেশ ঠেকানো বাংলাদেশের জন্য এক কঠিন পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের জোরালো হস্তক্ষেপ ছাড়া এই মানবিক ও জাতীয় নিরাপত্তা সংকটের সমাধান এখন প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *