নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ এখন অনিশ্চয়তার মুখে—এমনই উদ্বেগজনক সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ।
রোববার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও বৈশ্বিক সংকট মিলিয়ে দেশের প্রস্তুতি গুরুতরভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বৈশ্বিক অস্থিরতা—বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাত—স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য নতুন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য ঝুঁকি তৈরি করছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের ওপরও।
জাতিসংঘ বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব, দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকট, এবং চলমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ দেশের উত্তরণ প্রক্রিয়াকে নড়বড়ে করে তুলছে।
যদিও বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের তিনটি মানদণ্ডই পূরণ করেছে, তবুও সামনে রয়েছে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ—
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুবিধা হারানোর আশঙ্কা
রাজস্ব ও আর্থিক কাঠামোর দুর্বলতা
প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের ভঙ্গুরতা
অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতে বড় ঝুঁকি
প্রতিবেদনে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদার না হলে উত্তরণের সুফল টেকসই হবে না।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালেই বাংলাদেশের এলডিসি তালিকা থেকে বের হওয়ার কথা ছিল। তবে COVID-19 pandemic-সহ একাধিক সংকটের কারণে প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয়নি বলে জানিয়ে ইতোমধ্যে তিন বছর সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে বাংলাদেশ।
বিশ্লেষকদের মতে, এখনই কার্যকর সংস্কার না হলে এলডিসি উত্তরণ বাংলাদেশের জন্য “সুযোগের পরিবর্তে ঝুঁকিতে” পরিণত হতে পারে।
সব মিলিয়ে, অর্জনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েও বাংলাদেশ এখন এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি—উত্তরণ নয়, বরং প্রস্তুতির ঘাটতিই হয়ে উঠছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

