যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ওয়ান-ইলেভেনের সময়কার নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ওয়ান-ইলেভেন সময়কার নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনকে ঘিরে বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের ভিত্তিতে তাকে যেকোনো সময় গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ওয়ান-ইলেভেন (২০০৭-০৮) সময় তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রভাবশালী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় তিনি সেনাসমর্থিত তৎকালীন ক্ষমতাকেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করতেন এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন।
এছাড়া বিএনপিকে বিভক্ত করার অপচেষ্টা এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছাপানোর মতো গুরুতর অভিযোগও তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে, এসব কার্যক্রম তার তত্ত্বাবধানেই সম্পন্ন হয়েছিল এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে তা করা হয়।
তৎকালীন সময়ে নির্বাচন কমিশনের অন্যান্য সদস্য ও কর্মকর্তাদের ওপরও তার প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে একক আধিপত্য তৈরি হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
সাম্প্রতিক সময়েও তার ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সরকার বিব্রত হয়েছিল বলে জানা যায়। পরবর্তীতে তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বলেও সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে, তার পুত্র এম সাফাক হোসেনকে ঘিরেও চট্টগ্রাম বন্দর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বন্দরের বিভিন্ন প্রকল্প, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় তার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ছিল এবং কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে আর্থিক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ, যন্ত্রাংশ ক্রয় এবং সরাসরি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এসব অভিযোগ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সার্বিকভাবে, ওয়ান-ইলেভেন পর্ব থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাখাওয়াত হোসেন বর্তমানে গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

