Headlines

বঙ্গভবনে যেন ‘বন্দী’ ছিলেন রাষ্ট্রপতি: ড. ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে বি’স্ফোরক অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬​সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনামলে বঙ্গভবনে অনেকটা ‘অবরুদ্ধ’ বা ‘বন্দী’ অবস্থায় দিন কাটাতে হয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। গত শুক্রবার রাতে কালের কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলীকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে তাকে অবজ্ঞা, অপমান এবং সাংবিধানিক ক্ষমতা খর্ব করার একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনেন।​রাষ্ট্রপতি অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সম্মেলনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ এলেও সুপরিকল্পিতভাবে তাকে দেশের বাইরে যেতে দেওয়া হয়নি। গত ডিসেম্বরে কসোভোতে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কি-নোট স্পিকার হিসেবে আমন্ত্রিত হলেও তৎকালীন সরকার তাকে বাধা দেয়। এমনকি কাতারের আমিরের আমন্ত্রণে একটি সামিটে যাওয়ার কথা থাকলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তার জন্য একটি ‘অসন্তোষজনক’ খসড়া চিঠি পাঠিয়ে তাতে সই করতে চাপ দেওয়া হয়। চিঠিতে লেখা ছিল— তিনি ‘রাষ্ট্রীয় কাজে অত্যন্ত ব্যস্ত’। রাষ্ট্রপতি প্রশ্ন তোলেন, একজন রাষ্ট্রপতি কি এতটাই ব্যস্ত থাকেন যে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যেতে পারবেন না? তিনি মনে করেন, তাকে বিশ্ব অঙ্গন থেকে আড়াল রাখতেই এই ‘বন্দী’ দশা তৈরি করা হয়েছিল।​রাষ্ট্রপতি আক্ষেপ করে বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সংবিধানের বিধান লঙ্ঘন করে তার সাথে কোনো সমন্বয় করেননি। নিয়ম অনুযায়ী বিদেশ সফর শেষে রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করার কথা থাকলেও, ড. ইউনূস ১৪-১৫ বার বিদেশ সফর করলেও একবারের জন্যও বঙ্গভবনে আসেননি বা কোনো লিখিত রিপোর্ট দেননি। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় চুক্তি ও অধ্যাদেশ জারির বিষয়েও তাকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। তার কণ্ঠরোধ করার জন্য বঙ্গভবনের প্রেস উইং পর্যন্ত আক্রোশের শিকার হয়েছিল। বিদেশের মিশনগুলো থেকে এক রাতের মধ্যে তার ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছিল, যা তাকে মানসিকভাবে গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, তাকে অনেকটা আলঙ্কারিক পুতুলে পরিণত করে রাখা হয়েছিল এবং তাকে সরানোর জন্য বিভিন্ন সময় ‘মব’ পরিস্থিতি তৈরি করে অসাংবিধানিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল।​ভয়াবহ সেই দিনগুলোতে নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, “২২ অক্টোবর যখন বঙ্গভবন ঘেরাও করা হয়েছিল, তখন বিএনপি-র অনড় অবস্থান এবং সশস্ত্র বাহিনীর সহযোগিতায় আমি টিকে ছিলাম।” তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, বিএনপি কোনো অসাংবিধানিক উপায়ে তাকে অপসারণ সমর্থন করেনি, যা তাকে সেই প্রতিকূল পরিবেশে লড়াই করার শক্তি দিয়েছে। এই সাক্ষাৎকারের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের পক্ষ থেকে অবশ্য এখনো এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *